ফের চালু হচ্ছে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প

Posted: নভেম্বর 5, 2009 in Economics

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আলোচিত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প ফের চালু করছে বর্তমান সরকার।

চার বছরের এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।

সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে দেশের ৬ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৮২ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৯২৮টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৬৪০টি গ্রামে বিভিন্ন পেশাজীবীর সমন্বয়ে গ্রাম সংগঠন গঠন করা হবে। আর এর মাধ্যমে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ পরিবারের ২৮ লাখ ৯২ হাজার উপকারভোগীকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। গ্রাম সংগঠনগুলোতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সদস্য হবেন মহিলা।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে এই প্রকল্পটি চালু করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। সে অঙ্গীকার পূরণের জন্যই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।”

এ কে খন্দকার বলেন, “গ্রামের উন্নয়নের উপর দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছিল। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার কেনো এই ভালো প্রকল্পটি বন্ধ করে দিয়ছিল আমাদের (সরকার) কাছে তা বোধগম্য নয়।

“গ্রামের জনগণকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার জন্যই আমরা প্রকল্পটি ফের চালু করছি।”

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের এই প্রকল্পটি সরকারের চারটি সংস্থা বাস্তবায়ন করবে। সংস্থা চারটি হচ্ছে- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড-কুমিল্লা), সমবায় অধিদপ্তর, ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বগুড়া)।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু এবং প্রতিটি গ্রাম সংগঠনকে একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য বলে বৈঠকে উত্থাপিত প্রকল্পের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গ্রাম সংগঠনকে কার্যকর করার মাধ্যমে সমন্বিত গ্রাম উন্নয়ন নিশ্চিত, গ্রামের কৃষি পণ্য সুলভমূল্যে বিপণনের জন্য সমবায়ভিত্তিক বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং পল্লী এলাকার দরিদ্র ও চরম দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, মৌলিক চাহিদাপূরণ ও দারিদ্র্য দূর করা এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কার্যপত্রে বলা হয়, ২০০০ সালের জুলাই থেকে ২০০৫ সালের জুন মেয়াদে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০০১ সালের ২ জানুয়ারি একনেক বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। সে সময় ওই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৪৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

পরে ২০০২ সালের ২২ জুন প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘পল্লী প্রগতি প্রকল্প’ নাম দেয়া হয়।

বর্তমান সরকার পুনরায় মূল শিরোনামে প্রকল্পটি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সংগ্রহ – ঢাকা, নভেম্বর ৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s