জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম ঝুঁকির মুখে ঢাকা: ডব্লিউডব্লিউএফ

Posted: নভেম্বর 12, 2009 in Climate Change

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় থাকা এশিয়ার বড় শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানিয়েছে। ঝুঁকির ক্ষেত্রে ঢাকার পরেই রয়েছে ম্যানিলা ও জাকার্তা।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ফোরাম এপেক সম্মেলনে যোগ দিতে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সিঙ্গাপুরে সমবেত হওয়ার মুহূর্তে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশ্ব সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করলো।

শহরগুলোকে নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ডিসেম্বরে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি ন্যায্য, সুদূরপ্রসারী ও সবার জন্য অবশ্যপালনীয় একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছে এই প্রতিবেদন।

ডব্লিউডব্লিউএফ’র প্রধান কিম কারস্টেনসেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইতোমধ্যে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশের বড় শহরগুলোতে ধ্বংসের তাণ্ডব শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।” তিনি বলেন, “শহরগুলো প্রবল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, এদের কোটি কোটি বাসিন্দা ও বিপুল পরিমাণ সম্পদ এবং মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) তাদের অবদান রক্ষা করতে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।”

সিঙ্গাপুরে এপেক সম্মেলন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি ও জলবায়ুর উন্নয়নের জন্য কার্বনের নির্গমনের মাত্রা কমিয়ে আনার ব্যাপারে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরির সম্ভাব্য অবস্থানগুলো খুঁজে দেখার একটি সুযোগ করে দিয়েছে।

ডব্লিউডব্লিউএফ উপকূলীয় ও ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত এশিয়ার ১১টি শহরের ঝুঁকি নিরূপনের চেষ্টা করছে। ১০ পয়েন্টের সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রার হিসাবে ঢাকা ৯ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। এরপরে আছে ম্যানিলা ও জাকার্তা ৮ পয়েন্ট, কলকাতা ও নম পেন- ৭ পয়েন্ট, হো চি মিন সিটি এবং সাংহাই- ৬ পয়েন্ট, ব্যাংকক ৫ পয়েন্ট, এবং কুয়ালালামপুর, হংকং ও সিঙ্গাপুর ৪ পয়েন্ট।

কারস্টেনসেন বলেন, “এশিয়ায় খুব দ্রুত নগরায়ন ঘটছে এসব নগরগুলোই যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠবে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।”

“বিশ্বের জ্বালানি ব্যয়ের বেশিরভাগ ঘটে শহরগুলোতে এবং একইসঙ্গে বেশিপরিমাণে গ্রিনহাউজ নির্গমনের জন্যও তারা দায়ী। তবে শহরগুলো সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনেরও পথপ্রদর্শক । তাই জলবায়ু পরিবর্তনের কাছে শহরগুলোকে আমরা জলাঞ্জলি দিতে পারি না। বরং শহরগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এবং শহর ও গ্রাম এলাকাকে ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ক্ষমতাশীল করে তুলতে হবে।”

প্রতিবেদনটিতে পরিবেশগত পরিস্থিতি, সামাজিক-অর্থনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং অভিযোজন ক্ষমতা প্রভৃতি বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত দরিদ্র শহরগুলোর অভিযোজন ক্ষমতা কম অন্যদিকে সার্বিক ঝুঁকির বিবেচনায় অবস্থান শীর্ষ কাতারে।

কারস্টেন বলেন, “বিপদের উচ্চ ঝুঁকির মুখে থাকা ঢাকা, ম্যানিলা ও জাকার্তার মতো শহরগুলোর নেতাদের উন্নত বিশ্ব থেকে জরুরি ভিত্তিতে সহযোগিতা দরকার। তাদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন ক্ষমতা অর্জন নির্ভর করছে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সক্ষমতা তৈরি হওয়ার ওপর।”

সংগ্রহ – ঢাকা, নভেম্বর ১২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s