সরবরাহকারী ঋণে বরাবরই আগ্রহী বাংলাদেশ

Posted: অগাষ্ট 21, 2010 in Economics

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ২১টি দেশ এবং সংস্থা থেকে সরবরাহকারী ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে চীন থেকে, ২০ বার। এরপরই ভারতের অবস্থান। ভারত থেকে নেওয়া সরবরাহকারী ঋণের সংখ্যা ১৮ বার। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ বার এবং নেদারল্যান্ড থেকে আটবারবাংলাদেশ প্রথম সরবরাহকারী ঋণ বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট নেয় স্বাধীনতার কিছু পরেই। প্রথম ঋণটি নেওয়া হয় অস্ট্রিয়া থেকে ১৯৭২ সালে, সিলেট পাল্প মিলের জন্য। আর এরপর ১৯৭৩ সালের ২ জুলাই একসঙ্গে পাঁচটি সরবরাহ ঋণের চুক্তি করা হয়েছিল।
পুরাতন জাহাজ কেনার জন্য এই ঋণ নেয় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চালু রাখতে এই ঋণ নিতে সরকার বাধ্য হয়েছিল। এই সরবরাহকারী ঋণ দেয় মস্কো নারোডনাই ব্যাংকের সিঙ্গাপুর শাখা। সব মিলিয়ে নেওয়া হয় এক কোটি ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার ডলার। পাঁচ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে এবং সুদহার ছিল ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ।

সরবরাহকারী ঋণ বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটকে বলা হয় কঠিন শর্তের ঋণ। এর সুদহার বেশি থাকে, পরিশোধের সময়সীমা থাকে কম, পাশাপাশি ঋণ প্রদানকারীর কাছ থেকে পণ্যও কিনতে হয়। ফলে এই ঋণ নিতে আগ্রহীর সংখ্যা বেশি থাকার কথা নয়। কেননা, ঋণদাতা দেশ থেকে পণ্য ও যন্ত্রপাতি কিনতে হয় বলে এর মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। অথচ সরবরাহকারী ঋণ নিতে বাংলাদেশ বরাবরই আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯৪ বার সরবরাহকারী ঋণ নিয়েছে। এর পর সর্বশেষ বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তাকেও বলা হচ্ছে সরবরাহকারী ঋণ।
স্বাধীনতাযুদ্ধের পরপরই পুনর্গঠনের জন্য বিদেশি ঋণের ব্যাপক চাহিদা ছিল। সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া তখন সহজ ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সরবরাহকারী ঋণ নিতে হয়েছে। তবে পরবর্তীকালে কম গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নেও সরবরাহকারী ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ভারতে থেকে নেওয়া ঋণ নিয়েও সমালোচনা হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত ‘বৈদেশিক সম্পদ প্রবাহ’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ২১টি দেশ এবং সংস্থা থেকে সরবরাহকারী ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে চীন থেকে, ২০ বার। এরপরই ভারতের অবস্থান। ভারত থেকে নেওয়া সরবরাহকারী ঋণের সংখ্যা ১৮ বার। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ বার এবং নেদারল্যান্ড থেকে আটবার।
চীন থেকে প্রথম সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট নেওয়া হয় ১৯৮৪ সালে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) চারটি বস্ত্রকলের জন্য ৯ আগস্ট চারটি চুক্তি করে। বিটিএমসি ১৯৮৬ সালে আবারও চীনের কাছ থেকে চারবার সরবরাহকারী ঋণ নেয়। সব কটি ঋণের ক্ষেত্রে সুদহার ছিল ৭ শতাংশ। তবে প্রথম চারটি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে দুই বছরের বাড়তি সময়সহ আট বছরে, আর পরের চারটি ঋণ নয় বছরে।
বিদ্যুৎ খাতের জন্য চীন থেকে এই ঋণ নেওয়া হয়েছে পাঁচবার। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রথম ১৯৮৪ সালে আরিচা কনক্রিট পোল উত্পাদনকেন্দ্রের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ডলার ঋণ নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ, ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপন, সারকারখানা এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি প্রকল্পের জন্য একাধিকবার সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয় চীন থেকে। এসব ক্ষেত্রে সুদহার ছিল সাড়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে।
চীন থেকে সর্বশেষ এই ঋণ নেওয়া হয় ২০০৪ সালে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার ডিজিটাল রেডিও লিংক এবং ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জের জন্য নেওয়া হয় মাত্র তিন লাখ ৭২ হাজার ডলার। এ জন্য সুদ দিতে হচ্ছে সাড়ে ৩ শতাংশ এবং পরিশোধ করতে হবে ১৫ বছরে। এর আগে ২০০১ সালে দুবার এবং ১৯৯৯ সালে তিনবার চীন থেকে এ ধরনের ঋণ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে চীন থেকে সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয়েছে ৮৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪১ হাজার ডলার। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পরিশোধ করেছে ১০ কোটি ৭২ লাখ ৩২ হাজার ডলার।
ভারত থেকে বেশির ভাগ সরবরাহকারী ঋণ নেয় বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে পরিবহন খাতের জন্য ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বিআরটিসি। ভারত থেকে প্রথম সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া শুরু ১৯৭৪ সালে। এ বছরের ১৬ মে চারটি ঋণচুক্তি করা হয়েছিল। ভারত থেকে নেওয়া প্রথম সরবরাহকারী ঋণ ছিল এক কোটি ৮৩ লাখ ৬৪ হাজার ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক শিল্প খাতে ঋণ দেওয়ার জন্য এই অর্থ নেয়। এর সুদহার ছিল ৫ শতাংশ এবং পরিশোধের সময় ১৫ বছর। জনতা ব্যাংক একই দিনে ২১ কোটি ৯৭ লাখ ৯৮ হাজার রুপি নেয় বিভিন্ন সরকারি করপোরেশনকে ঋণ হিসেবে বিতরণের জন্য।
১৯৭৫ সালে আবারও দুটি সরবরাহকারী ঋণচুক্তি হয় ভারতের সঙ্গে। এ ক্ষেত্রে সুদহার ছিল ৫ ও সাড়ে ৬ শতাংশ। ১৯৭৮ সালে সোনালী ব্যাংক ভারতের কাছ থেকে দুবার এই ঋণ নেয়, সুদহার ছিল ৬ ও সাড়ে ৬ শতাংশ। ১৯৮৩ সালে ভারতের কাছ থেকে সাতবার ঋণচুক্তি করা হয়। শিল্প ব্যাংক, শিল্প ঋণ সংস্থা, অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংক এবং কৃষি ব্যাংক এসব ঋণ নেয়। উচ্চ সুদহারে এসব ঋণ নেওয়া হয়েছিল। সাড়ে ১৩ বছরে পরিশোধযোগ্য এসব ঋণের সুদহার ছিল ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।
১০০ কোটি ডলারের সাম্প্রতিক ঋণচুক্তির আগে ভারত থেকে সর্বশেষ সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয় ২০০০ সালের ১১ জুলাই। রেলওয়ের জন্য কনটেইনার ওয়াগন কিনতে সাড়ে ৮ শতাংশ সুদহারে ২৯ লাখ ৮৩ হাজার রুপি নেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে ভারত থেকে নেওয়া হয়েছে ৯২ কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার রুপি বা ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ পরিশোধ করেছে ৯২ কোটি নয় লাখ ৩৬ হাজার রুপি বা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ডলার।
ভারতের পর রাশিয়া থেকেই সরবরাহকারী ঋণ সবচেয়ে বেশি এসেছে। আর এর অধিকাংশ ঋণই নেওয়া হয়েছে আশির দশকে, এরশাদের সময়ে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বা এখনকার রাশিয়া থেকে ১০ বারই সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ খাতের জন্য। এসব ঋণের সুদহার ছিল ৩ থেকে ৪ শতাংশ এবং পরিশোধ করতে হয়েছে নয় থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। রাশিয়া থেকে নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ৩৮ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। এর মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে ৩৭ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার।
রাশিয়া থেকে প্রথম ঋণ নেওয়া হয় ১৯৮১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। ঘোড়াশাল বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য নেওয়া হয় সাত কোটি পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ডলার। ১৯৮৩ সালে এই ঘোড়াশালেরই আরেকটি ইউনিটের জন্য নেওয়া হয় সাত কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ডলার। রাশিয়া থেকে ১০ বার নেওয়া ঋণের মধ্যে নয়বারই নেওয়া হয় ঘোড়াশাল বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য, একবার নেওয়া হয় সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০০০ সালে নেওয়া ঋণের অর্থ এখনো পাওয়া যায়নি।
অন্যান্য দেশের মধ্যে ১৯৭৪ সালে তিন লাখ মেট্রিক টন গম কেনার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে সাপ্লায়ার্স ঋণ নেওয়া হয়েছিল চার লাখ ১০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। মাত্র পাঁচ মাসে এই ঋণ পরিশোধ করতে হয়। আর এ জন্য সুদ দিতে হয় ১০ শতাংশ। অস্ট্রিয়া থেকে সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয় দুবার। এর মধ্যে ১৯৭২ সালে ৪ শতাংশ সুদে সিলেট পাল্প মিলের জন্য নেওয়া হয় ১১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার অস্ট্রিয়ান সিলিং। ১৯৮০ সালে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদে আবারও সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয় সেচ যন্ত্রপাতি কেনার জন্য। সব মিলিয়ে অস্ট্রিয়া থেকে নেওয়া হয়েছে ১১ কোটি ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার সিলিং এবং পুরোটাই পরিশোধ করা হয়েছে।
তত্কালীন চেকোস্লোভাকিয়া থেকে ১৯৮৭ সালে এই ঋণ একবারই নেওয়া হয়। সাড়ে ৩ শতাংশ সুদে নয় লাখ ৩৯ হাজার ডলার নেওয়া হয়েছিল ক্রেন ও ডিজেল জেনারেটর কেনার জন্য। ফ্রান্স থেকেও একবারের জন্য ঋণ নেওয়া হয়েছিল ১৯৮২ সালে, সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের জন্য। এক কোটি ডলারের এই ঋণে সুদহার ছিল লন্ডন আন্তব্যাংক সুদহার এবং ১ শতাংশ। সাড়ে আট বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। হাঙ্গেরি থেকে দুবারে সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয় এক কোটি ৪৭ লাখ ১৭ হাজার ডলার। উভয় ক্ষেত্রেই সুদহার ছিল সাড়ে ৬ শতাংশ। জাপানও সরবরাহকারী ঋণ দিয়েছে দুবার। সারকারখানার জন্য নেওয়া হয় ছয় কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ডলার। এর মধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে তিন কোটি ২৬ লাখ ৩৮ হাজার ডলার।
নেদারল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ সরবরাহকারী ঋণ নেয় আটবার। বিমান চলাচলে ফকার কেনা থেকে শুরু করে বস্ত্র ও চামড়াশিল্পের জন্য এসব ঋণ নেওয়া হয়। ১৯৭৮ থেকে শুরু করে ১৯৮৯ সালের মধ্যে নেওয়া এসব ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, ৫ থেকে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। পরিশোধ করতে হয়েছে ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। সব মিলিয়ে এই দেশটি থেকে নেওয়া হয় পাঁচ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ডলার।
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির জন্য উত্তর কোরিয়া থেকে ৪ শতাংশ সুদে ১০ কোটি ৭৫ লাখ ডলার নেওয়া হয় ১৯৯৪ সালে। এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে দুই কোটি ৩২ লাখ ডলার। এ ছাড়া নরওয়ে থেকে বিদ্যুৎ খাতের জন্য ও নরডিক উন্নয়ন তহবিলের কাছ থেকে সারকারখানার জন্য (কাফকো) সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয় অত্যন্ত কম সুদে। এর হার ছিল মাত্র দশমিক ৭৫ শতাংশ। পাকিস্তান থেকেও সরবরাহকারী ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। পাবনা ও নাটোর চিনিশিল্পের জন্য যন্ত্রপাতি কিনতে এক কোটি ৯১ লাখ ডলারের ঋণ নেওয়া হয় ১৯৮১ ও ১৯৯২ সালে। উভয় ক্ষেত্রেই সুদহার ছিল ৬ শতাংশ। গ্যাস খাতের উন্নয়নে রুমানিয়া থেকে চারবার এই ঋণ নেওয়া হয়। রুমানিয়া থেকে নেওয়া বাকি ঋণটি ছিল বস্ত্রকলের জন্য। সাড়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশ সুদে সব মিলিয়ে নেওয়া হয় তিন কোটি ৮৫ লাখ ডলার।
১৯৮০ সালে টিউবলাইট কারখানা তৈরির জন্য সিঙ্গাপুর থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ সুদে নেওয়া হয় ৩৪ লাখ ডলার। প্রায় একই সুদহারে ট্রেন কিনতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১৯৮৪ সালে নেওয়া হয় ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ২০০৩ সালে স্পেন থেকেও ট্রেন যোগাযোগের উন্নতির জন্য দুবার সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয়। ১৫৪ কোটি ৩৫ লাখ ইয়েনের জন্য প্রথম ঋণের সুদহার ছিল প্রায় দেড় শতাংশ এবং পরেরটির ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। সুইডেন থেকে তিনবারে নেওয়া হয় আট কোটি ৩২ লাখ ক্রোনার। এর মধ্যে ১৯৮১ সালে নেওয়া প্রথম ঋণের সুদহার ছিল আড়াই শতাংশ, এর পরেরটি ছিল প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ।
সবশেষে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য থেকে সাতবার সরবরাহকারী ঋণ নিয়েছে। তিন ধরনের মুদ্রায় এই ঋণ নেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই কোটি ৯৯ লাখ পাউন্ড স্টার্লিং, ২৪৩ কোটি ৭২ লাখ ইয়েন এবং ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। এর মধ্যে ব্লেড কারখানার জন্য নেওয়া ঋণের সুদহার ছিল ১ শতাংশ। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে সুদহার সাড়ে ৫ থেকে ৯ শতাংশ।
বাংলাদেশে সরবরাহকারী ঋণের প্রভাব বা এ থেকে দেশ কতটুকু লাভবান হয়েছে, তার কোনো সমীক্ষা নেই। স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে আশির দশকের কিছু সময় পর্যন্ত সহজ শর্তের ঋণের দুষ্প্রাপ্যতার জন্য সরবরাহকারী ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছিল দেশ। পরে অবশ্য সহজে পাওয়া যায় বলে এই ঋণ নেওয়া হয়েছে। আবার সহজ শর্তের ঋণের কঠিন শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণেও সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া হয়েছে। ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সরবরাহকারী ঋণের প্রভাব ও দায় নিয়ে একটি সমীক্ষা করেছিল। সেখানে এ ধরনের ঋণ না নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরবরাহকারী ঋণ নেওয়া বন্ধ হয়নি। সবশেষে ভারত থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হচ্ছে, সেটিও সরবরাহকারী ঋণ বলেই মানছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে বলা যায়, সরবরাহকারী ঋণের উপযোগিতা সমীক্ষা করে দেখার এখনই সবচেয়ে ভালো সময়।

শওকত হোসেন | তারিখ: ২০-০৮-২০১০ প্রথম আলো

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s