কানকুনে জলবায়ু সম্মেলনে অভিন্ন অবস্থান নেবে দক্ষিণ এশিয়া

Posted: অগাষ্ট 24, 2010 in Climate Change, Uncategorized

মেক্সিকোর উপকূলীয় শহর কানকুনে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে অভিন্ন অবস্থান নেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দূর করতে সার্কভুক্ত দেশগুলো বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে স্বল্পোন্নত ও ছোট দ্বীপদেশগুলোর জন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থের জোগানের প্রস্তাব দেবে। পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর বিষয়ে উন্নত দেশের আইনগত বাধ্যবাধকতামূলক প্রতিশ্রুতি আদায়ের কথা বলবে। তুলে ধরবে ১১ দফার এক প্রস্তাব।  ১৬ ও ১৭ আগস্ট ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত সার্ক দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জলবায়ু সম্মেলনে সার্কের অবস্থান নির্ধারণের লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্ক বিমসটেক ও এসিডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. সুফিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষজ্ঞদের ওই সব প্রস্তাব সার্কের পক্ষ থেকে কানকুনের সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ অঞ্চলের ক্ষতিপূরণ

আদায়ের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য অভিন্ন এ অবস্থান ফলপ্রসূ হবে।  কানকুনে ২৯ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর ১৬তম জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কানকুন সম্মেলনে সার্কের পক্ষ থেকে অভিন্ন অবস্থানের ব্যাপারে যে ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হবে, তার বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। খুব স্বাভাবিকভাবেই কোপেনহেগেনের মতো এবারও বাংলাদেশের অবস্থান জোরালো থাকবে।  অন্য এক কর্মকর্তা জানান, গত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা জলবায়ুর পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের সে অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের থিম্পু ঘোষণায়।  কানকুনের জলবায়ু সম্মেলন সামনে রেখে সার্কের ১১ দফা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিপূরণ জোগাতে নতুন করে অতিরিক্ত তহবিলের ব্যবস্থা করতে হবে। স্বল্পোন্নত ও ছোট দ্বীপদেশগুলোর জলবায়ু অভিযোজন তহবিল গঠনের জন্য উন্নত দেশগুলো তাদের গড় মাথাপিছু আয়ের ১ দশমিক ৫ শতাংশ দেবে। জলবায়ু পরিবর্তনের স্বল্পমেয়াদি তহবিল ব্যবহারের জন্য নীতিমালা তৈরি করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। জলবায়ু অভিযোজন ও জলবায়ু-ঝুঁকি প্রশমনের জন্য আলাদা তহবিল গঠন করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যাতে দুটি তহবিলই সুষম হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ধুঁকছে, তাদের জন্য অভিযোজন তহবিলও নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশ ও ছোট দ্বীপদেশগুলোর প্রতি দিতে হবে বিশেষ নজর।  প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হস্তান্তর তহবিলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ুর অভিযোজন ও ঝুঁকি প্রশমনের লক্ষ্যে প্রযুক্তির হস্তান্তরে সার্কের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি উদ্ভাবন কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। জলবায়ুর অভিযোজনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় অভিযোজন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উন্নত দেশগুলো সুনির্দিষ্ট সময়সূচি উল্লেখ করে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্যানেল আইপিসিসির সুপারিশ অনুযায়ী যাতে আইনগত বাধ্যবাধকতামূলক অঙ্গীকার করে, সেটি লক্ষ রাখতে হবে। বালি কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সব সদস্যদেশকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংগ্রহ- দৈনিক প্রথম আলো ২৪.০৮.১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s