দারিদ্র্যসীমার নিচে দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ

Posted: অগাষ্ট 24, 2010 in Uncategorized

দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ২০০৯ সালের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা কত_ তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। দাতাসংস্থাগুলো বলছে, বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি, আর সরকার বলছে মোট জনসংখ্যা এখনও ১৬ কোটি পেরিয়ে যায়নি। তবে ১৬ কোটি জনসংখ্যা ধরলেও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ মানুষ।২০০৫ সালের পর আর কোনো আদমশুমারি না হওয়ায় পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাছে জনসংখ্যার হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে এখন জনসংখ্যা ১৪ কোটি। প্রতিবর্গ কিলোমিটারে বাস করে ৯৫৩ জন মানুষ। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০০৮ সালের মাঝামাঝি দেশে জনসংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ৬ লাখ। গত ১৪ জানুয়ারি জাতিসংঘ শিশু তহবিল ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে জনসংখ্যা হচ্ছে সাড়ে ১৫ কোটি। বিশ্বব্যাংকের মতে, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৪ লাখ। জনসংখ্যার পরিসংখ্যান নিয়ে এ ধরনের

ধূম্রজাল রয়েছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। এর বিরূপ প্রভাবে তখন দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায় বিশাল এক জনগোষ্ঠী। সেন্টার পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক হিসাবে, ২০০৭ ও ২০০৮ সালের ১৫ মাসে প্রায় আড়াই লাখ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এরপর আর পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। আয় বাড়েনি তেমন।
জনসংখ্যা বাড়লেও দারিদ্র্যের হার কমছে। এটা বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ। আবার একথাও সত্যি, চরম বা অতি দরিদ্র মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়নি বরং আরও খারাপ হয়েছে। ১৯৯৫ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৯ শতাংশ। পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে ২০০১ সালে দারিদ্র্যের হার আরও কমে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। ২০০৯ সালে তা ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ২৯ শতাংশ নামিয়ে আনার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ এমডিজি লক্ষ্য পূরণে কাজ শুরুর পর থেকে বিস্ময়করভাবে দেশে দিন দিন বেকারত্বের হার বাড়ছে। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে কর্মক্ষম বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশের বর্তমান মোট ১৬ কোটি জনসংখ্যার ৬৪ শতাংশ যুবক। সে হিসাবে দেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৩৭ লাখ বেকার জনসংখ্যা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অগ্রগতি নিয়ে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখবেন। সে আলোকে তিনি দাতাদের কাছে সহায়তা কামনা করবেন। এজন্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করে দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ২০০০ সালে জাতিসংঘের ‘মিলেনিয়াম সামিটে’ ১৮৯টি দেশের সরকার প্রধানদের উপস্থিতিতে ‘মিলেনিয়াম ডিক্লারেশন’ নামে এমডিজি নির্ধারণ করা হয়। পৃথিবীর দরিদ্রতম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদার বিবেচনায় আটটি মূল লক্ষ্য পূরণ ও ১৮টি নির্ধারক চিহ্নিত করা হয়। দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশও এমডিজির লক্ষ্য পূরণে সে সময় কাজ শুরু করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশু মৃত্যুর হার, সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন এবং বনায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বেকারত্ব, আঞ্চলিক আয় বৈষম্য, মাতৃ স্বাস্থ্য ও মৃত্যুর হার, উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে দেশ। যেসব লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে, সেসব খাতে আরও নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে এমডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদনে।

সংগ্রহ- দৈনিক সমকাল ২৫.০৮.১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s