পুলিশের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি!

Posted: অগাষ্ট 24, 2010 in Uncategorized

সময় সোমবার দুপুর আড়াইটা। ঢাকা মেট্রো-হ-১১-১৬৭৩ নম্বরের একটি মিশুক এসে থেমেছে রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর বনানী ৪ নম্বর রোডের এআইইউবি ক্যাম্পাসের মুখে। কিছু দূরে দাঁড়ানো ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল সিদ্দিক। এক পা দুই পা করে মিশুকটির কাছে এলেন তিনি। মিশুকে বসে থাকা ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলছেন আর ডান হাতে থাকা বেতের লাঠিটি ঘুরাচ্ছেন। মিনিট দুই পর ড্রাইভার পকেটে হাত ঢোকালেন, টাকা বের করে পুলিশের হাতে দিলেন। এরপর কনস্টেবল সিদ্দিক গেলেন পেছনের মিশুকটির কাছে। একই ভঙ্গিতে ড্রাইভারের সামনে দাঁড়ালেন। একে একে লাইনে থাকা পাঁচটি মিশুক থেকে টাকা আদায় শেষে ফিরে গেলেন এআইইউবি ক্যাম্পাস গেটেরদারোয়ানের কাছে। ১৫-২০ মিনিট পর আবারও নতুন পাঁচটি মিশুক এসে লাইন দিলে কনস্টেবল সিদ্দিক মিশুকগুলোর কাছে গেলেন এবং টাকা আদায় শেষে এআইইউবি ক্যাম্পাস গেটে এসে দাঁড়ালেন। প্রকাশ্যে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছে পুলিশ। রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে এটা অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। প্রতিদিনের (বিট) চাঁদার টাকা আদায় ছাড়াও তারা যানবাহন থেকে বিভিন্ন ছুতায় আদায় করছেন টাকা। এমন অভিযোগ স্থানীয় মিশুক ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের। বনানী ৪ নম্বর রোডের মুখে চাঁদাবাজি : বেশ কয়েকজন মিশুকচালক জানান, বনানী ৪

নম্বর রোড কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর সামনে থেকে বনানী-২ হয়ে বাড্ডা নতুন বাজার পর্যন্ত চলাচল করে ৯০ থেকে ১০০টি মিশুক, ১৫-২০টি সিএনজি অটোরিকশা এবং পাঁচটি মাইক্রোবাস। প্রতিজন ১০ টাকা ভাড়ায় এগুলো চলাচল করে। এ রুট ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন তাদের বিট (চাঁদা) দিতে হয় পুলিশকে। বনানী ৪ নম্বর রোড কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর সামনে চাঁদার টাকা পুলিশই আদায় করে। তবে বাড্ডা নতুন বাজার এলাকায় বিটের টাকা দিতে হয় স্থানীয় শান্ত এবং আজাদ নামে দু’জনকে। পরে এ টাকার ভাগ পায় দুই প্রান্তের (বনানী ৪ নম্বর রোড মোড় এবং বাড্ডা নতুন বাজার) পুলিশ। ড্রাইভাররা জানান, প্রতিদিন এ রুটে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বিট দিতে হয় পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের। মিশুকপ্রতি বিট দিতে হয় ৮০, সিএনজি অটোরিকশাপ্রতি ১০০ এবং মাইক্রোবাসপ্রতি ২০০ টাকা করে। এছাড়া প্রতিদিন নানা কারণে এসব যানবাহন থেকে আরও চাঁদা আদায় করে পুলিশ। গড়ে এখান থেকে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা বা বিট আদায় করা হয়। চাঁদার টাকা বণ্টন : সূত্রগুলো জানায়, প্রায় দিনই বদলি কনস্টেবল আর সার্জেন্ট দাঁড়ান বনানী ৪ নম্বর রোড মোড়ে। দিনের ভাগের এক-তৃতীয়াংশ টাকা দিনেই দিয়ে দেওয়া হয় তাদের। আর বাকি টাকার অর্ধেক যায় বাড্ডা নতুন বাজার এলাকায় বাড্ডা থানায়। সেখান থেকেই ভাগ হয় টাকা। অর্ধেক একটি ক্লাবের নামে নেয় শান্ত ও আজাদ। অভিযোগ রয়েছে, এ দু’জন নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের লোক বলে দাবি করে।

সংগ্রহ- দৈনিক সমকাল ২৫.০৮.১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s