বহুজাতিক কোম্পানি শিশুর প্রধান শত্রু

Posted: অগাষ্ট 24, 2010 in Uncategorized

দক্ষিণ এশিয়া ও এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ২০ লাখ মানুষ যুদ্ধ ও দ্বন্দ্বের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে এ অঞ্চলের প্রায় ১৩ লাখ শিশু প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে। দুটো কারণেই শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে। জতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মৃত্যুহার কমাতে মায়ের দুধের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। গতকাল মঙ্গলবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি অভিজাত হোটেলে শুরু হওয়া জরুরি অবস্থায় নবজাতক ও শিশুদের খাদ্য বিষয়ে আঞ্চলিক সভায় তাঁরা এ কথা বলেন। সভায় এই অঞ্চলের ১১টি দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও ইউনিসেফ ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। সভা শেষ হবে ২৭ আগস্ট। সভায় জরুরি অবস্থায় শিশুখাদ্য নিয়ে বিভিন্ন দেশের নীতি, পরিকল্পনা, গৃহীত পদক্ষেপ,

দাতাদের ভূমিকা প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশের দুজন সাংবাদিক ছাড়াও ইউনিসেফের একজন প্রতিনিধি এতে অংশ নিচ্ছেন। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেন, অনেকে ধারণা করেন, জরুরি অবস্থায় মা তাঁর শিশুকে বুকের দুধ দিতে পারেন না। একাধিক গবেষণায় এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তাঁরা বলেন, জরুরি অবস্থায় মা তাঁর শিশুকে বুকের দুধ দিতে পারেন না—এ ধারণা বেশি করে ছড়ায় কৃত্রিম শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউনিসেফের জরুরি অবস্থায় শিশুখাদ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নোয়েল জাগারে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ৫৬ শতাংশ ঘটে এশিয়ায়। পৃথিবীর ১০টি দেশে সাইক্লোন, টাইফুন, সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি হয়, এর মধ্যে সাতটি দেশই এশিয়ার। তিনি বলেন, এ ছাড়া যুদ্ধের মতো মানবসৃষ্ট দুর্যোগও আছে। এসব দুর্যোগের প্রথম ও প্রধান শিকার হয় শিশুরা। তখন শিশুর খাদ্য কী হবে তার জন্য আগাম প্রস্তুতি দরকার। আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কর্মকর্তা মহসীন আলী বলেন, অনেক দেশে নীতি-পরিকল্পনা সবই আছে। সমস্যা হয় সেগুলো বাস্তবায়নে। ইউনিসেফ নিউইয়র্ক কার্যালয়ের প্রতিনিধি নুনে ম্যাঙ্গাসারিয়ান বলেন, ঘানার এক গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের পর প্রথম ঘণ্টায় বুকের দুধ পেলে ২২ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যু কমে এবং প্রথম দিনে বুকের দুধ পেলে ১৬ শতাংশ মৃত্যু কমে। তিনি এই অঞ্চলের ১৬টি দেশের একটি তালিকা দেন, যেসব দেশে বুকের দুধ খাওয়ানোর হার বেড়েছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশের নাম দেখা যায়নি। কৃত্রিম শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী ব্যবসায়ী নীতি ও কৌশল নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন একই প্রতিষ্ঠানের ডেভিড ক্লার্ক। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা নানাভাবে বুকের দুধের মানকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মূল বাজার এখন এশিয়া। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সময়কালে তারা এশিয়ায় ৩৭ শতাংশ বাজার বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ বিকল্প শিশুখাদ্য নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়নের যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তাতে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এসব কোম্পানি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মাকে সহায়তা করলেই তিনি শিশুকে বুকের দুধ দিতে পারেন। কোনো মা নিতান্ত অপারগ হলে শিশুকে এমন খাদ্য দিতে হবে, যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকে। সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রস্তুতি না থাকলে জরুরি অবস্থায় শিশুকে মায়ের দুধ বা উপযুক্ত খাদ্য কোনোটাই দেওয়া সম্ভব হয় না। যখন দুর্যোগ থাকে না তখনই সম্ভাব্য দুর্যোগে শিশুখাদ্য নিয়ে প্রস্তুতির সঠিক সময়। এ জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা, ইউনিসেফের নীতিমালা ও দেশীয় নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলা উচিত বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।

সংগ্রহ- দৈনিক প্রথম আলো ২৫.০৮.১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s