কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়েছিল লিখিত নির্দেশে

Posted: অগাষ্ট 25, 2010 in Uncategorized

এক সেনা কর্মকর্তার লিখিত নির্দেশেই ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই ভোর ৪টার দিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এম এ তাহেরকে। শুধু তিনিই নন, ওই সময় আরো অনেককেই এমন নির্দেশে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে বলে সাবেক এক কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তখন সময়টা এমন ছিল যে, কোনো নিয়ম-কানুন মানার সুযোগ ছিল না। ওপর থেকে যে নির্দেশ আসত, তাই পালন করতে হতো। কর্নেল তাহেরের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। অন্যদিকে হাইকোর্টের নির্দেশনা পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ গোপন বিচারের নথি খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে গত দুদিনেও সেই কপি খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম গতকাল বিকেলে টেলিফোনেকালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালতের নথিপত্র তলবের কোনো চিঠি আমাদের হাতে এখনো আসেনি। চিঠি পাওয়ার পর নির্দেশনা দেখে আমরা জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা নেব।’ কারা সূত্রে জানা যায়, কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারের নথিপত্র তলব করার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর কারা কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে রায়ের আদেশটি খোঁজার কাজ শুরু করে। সোমবার রাতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে টেলিফোনে কারা কর্তৃপক্ষকে রায়ের কপি খুঁজে বের করতে বলা হয়। কারাগারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা পুরনো সব কাগজ তন্ন তন্ন করে খুঁজছি।’  সাবেক উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. আমিনুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন,

‘কর্নেল তাহেরকে যখন ফাঁসি দেওয়া হয়, তখন আইজি প্রিজনের দায়িত্বে ছিলেন এ টি এম নুরুজ্জামান ও ঢাকার ডিআইজি প্রিজন্স ছিলেন মোফাখখার হোসেন। আর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ছিলেন মতিন শফি। আমার জানা মতে, তাঁরা তিনজনই মারা গেছেন। ওই সময় আমি যশোর কারাগারের জেলার ছিলাম। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কিভাবে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়েছে সে ব্যাপারে বলতে পারব না।’ সাবেক এক কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়ার সময় তিনি অন্য একটি কারাগারে কর্মরত ছিলেন। ফাঁসি কার্যকরের পর তিনি শুনেছেন, জিয়াউর রহমানের নির্দেশে এক সেনা কর্মকর্তা ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই আইজি প্রিজনের কাছে লিখিত একটি নির্দেশ নিয়ে যান। সেই চিঠিতে ফাঁসি কার্যকর করার নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ীই তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ওই সময় ফাঁসি কার্যকরের নিয়মাবলি মানা হয়নি। কারাগারে যাঁরা কর্মরত ছিলেন তাঁদের নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধ্য করা হতো। কারা বিধি অনুযায়ী আদালত থেকে ফাঁসির রায় দেওয়ার পর সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার সুযোগ থাকে। রাষ্ট্রপতি প্রাণ ভিক্ষা না করলে কারা বিধি অনুযায়ী ২১ দিন পর ও ২৮ দিনের মধ্যে যেকোনো দিন ফাঁসি কার্যকর করতে হয়। কিন্তু কর্নেল তাহেরের ক্ষেত্রে এ নিয়মের কোনোটিই পালন করা হয়নি বলে ওই কর্মকর্তা জানান। কারা সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের কাছেই যে কক্ষটিতে সিনিয়র জেল সুপার বসেন, তখন সেই কক্ষটিতে বসতেন ডিআইজি প্রিজন্স। ১৯৭৬ সালের জুন মাসে ওই রুমেই কর্নেল তাহেরের বিচারের জন্য আদালত বসানো হয়েছিল। এজলাসে তাহেরসহ ৩২ জনের বিচার কাজ সম্পন্ন করা হয়। ১৯৯৬ সালে জেল সুপারের পদ সৃষ্টির পর ওই কক্ষটি তাঁর অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাবেক এক কারা কর্মকর্তা বলেন, ওই কক্ষটিতে বিচার হলেও বিচারসংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে থাকার কথা নয়। কারাগারে শুধু রায়ের আদেশটিই থাকে। সেই আদেশের কপি পাওয়া দুষ্কর। তিনি বলেন, ‘আমি যখন দায়িত্ব পালন করেছি, তখন চেষ্টা করেছিলাম পুরনো কাগজপত্র সংরক্ষণের জন্য। সেখানে এই আদেশটি আছে কি না তা বলা মুশকিল।’ জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রব ওই সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। তিনি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২০ নম্বর সেলে বন্দি ছিলাম। যেদিন কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, সেদিন আমরা সেলের ছাদ থেকে দেখতে পাই ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। পরে আমাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।’

সংগ্রহ- কালের কন্ঠ ২৬.০৮.১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s