নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে কিছু কথা

Posted: অগাষ্ট 25, 2010 in Uncategorized

শিরীন আখতার

১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের প্রায় ২০০ নারী নেতা – কর্মী, সরকার প্রধান, সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ সমবেত হয়েছিলেন চীনের বেইজিং -এ। অনুষ্ঠিত হচ্ছিল শানিত্ম, উন্নয়ন ও সমতার দাবিতে বেইজিং সম্মেলন। যে সম্মেলনে ৩৫ হাজার নারী-পুরম্নষ দাবি তুলেছিল নারীর নিরাপত্তা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করতে সকল রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ হবে। ঘোষণা দিয়েছিল নারীর বিরম্নদ্ধে যে কোন সহিংসতার বিচার করতে হবে। নারীর অগ্রযাত্রায় যে কোন বাধা অপসারণ করতে হবে। নারীর শ্রমের স্বীকৃতি দিতে হবে।

এই সকল দাবিতে নারীরা যখন মিছিলে মিছিলে প্রকম্পিত করছিল হোয়াইহো শহর তখন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সরকারী দলনেতা সভা করছিলেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দলনেতাদের সাথে। বেইজিং সম্মেলনে যে ঘোষণা গৃহীত হয়েছে সেই ঘোষণা বাসত্মবায়নের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিল। ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশের উত্তরে

দিনাজপুরের দলমাইলে গৃহশ্রমিক কিশোরী ইয়াসমিন ঢাকা শহর থেকে রাতের গাড়িতে চড়ে মায়ের কাছে যাবার অপেড়্গায় বসেছিল। নিরাপত্তায় নিয়োজিত নৈশ পুলিশেরা তাকে নিরাপদে মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তুলে নিয়েছিল এবং ধর্ষণ ও অত:পর হত্যা।

একদিকে যখন সারা পৃথিবীর মানুষ একজায়গায় শেস্নাগান তুলছে নির্যাতনের বিরম্নদ্ধে এখনই ইয়াসমিনের মত অনেক কিশোরী নির্যাতিত ও পতিত হচ্ছিল পৃথিবীর দেশে দেশে। কিন্তু বাংলাদেশের এই ঘটনাটি একটু অন্যরকম। পুলিশের হাতে ধর্ষণ এবং হত্যা করে পতিতা লাশ বানানোর জন্য রম্নখে দাঁড়িয়েছিল গোটা দিনাজপুরবাসী। প্রতিবাদ মুখর দিনাজপুরবাসী আন্দোলন যখন বেগবান হচ্ছিল তখন নির্বিচারে পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা করে ৭ জন প্রতিবাদিকে। এ যেন সাত ভাই চম্পা এক বোন পারম্নলের রূপকথা। কিন্তু রূপকথাকেও হার মানিয়েছে ইয়াসমিনের মৃত্যু।

সারা বাংলাদেশের নারী সমাজ এবং বেইজিং সম্মেলন ফেরৎ নারী নেত্রীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ইয়াসমিনের এই ঘটনাটিকে গুরম্নত্বের সঙ্গে তুলে ধরে। আন্দোলনের কর্মসূচি তৈরি হলো নারী প্রগতি সংঘের অফিসে বসে “সম্মিলিত নারী সমাজ” নারীদের একটি আন্দোলনমুখী সংগঠনের জন্ম হলো। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল এই আন্দোলন। এর সাথে যুক্ত হলো বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। আইনজীবী বিচারক কেউ বাদ রইল না। এক অভূতপূর্ব বিচার প্রক্রিয়া শুরম্ন হলো। নারী নির্যাতনের বিরম্নদ্ধে আইনের মারপ্যাঁচ, ফাঁক-ফোকর কাটিয়ে সরকারি কৌসুলীদের বিরম্নদ্ধে এক আইনী লড়াই চলল। রংপুর জজকোর্টে রায় হলো তিনজন পুলিশের ফাঁসি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম পুলিশের বিরম্নদ্ধে এই ধরনের বড় মামলা হাইকোর্টে আসল এবং দীর্ঘ ১০ বছর পর হাইকোর্ট এই রায়কে সঠিক বলে ঘোষণা করলো। জয় হল সত্যের নির্যাতনের বিরম্নদ্ধে আন্দোলনের। কিন্তু এর পরে কি থেমে আছে নির্যাতন? নির্যাতন চলছে। সে কারণেই আজকে খুবই জরম্নরী শুধুমাত্র আইন তৈরি করলেই হবে না সবচাইতে প্রয়োজন এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নারী নির্যাতনের বিরম্নদ্ধে যে সকল প্রচলিত আইন রয়েছে সেগুলো যুগোপযোগী করা এবং বাসত্মবায়নের জন্য আইনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া। নির্যাতনের ধরন এখন বিভিন্ন মাত্রায় চলছে। যখন গৃহশ্রমিক ইয়াসমিনের কথা ভাবি তখন মনে হয় এরকম হাজারও ইয়াসমিন বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

লেবার ফোর্স সার্ভে ২০০৬ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে গৃহকর্মে নিয়োজিত মোট শ্রমিক ৩,৩১,০০০ (১৫ বছরের উপরে)। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশু শ্রম জরিপ ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী গৃহকর্মে নিয়োজিত মোট শিশু (৫-১৭ বছর) শ্রমিক হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ মেয়ে শিশু। তবে সাধারণ ধারণা মতে দেশে বর্তমানে ২০ লাখেরও বেশি শ্রমিক গৃহকর্মে নিয়োজিত আছে।

জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় ২৩, ২৪ ও ২৫ অনুচ্ছেদে শ্রমিকের মানবাধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সকল কর্মী বা শ্রমিকের মজুরি, বিশ্রাম, অবসর, যুক্তিযুক্ত কর্মঘণ্টাসহ শ্রমিকের স্বার্থ রড়্গার্থে সকল অধিকার সংরড়্গণের কথা বলা হয়েছে। যুক্তিযুক্ত মজুরির বিনিময়ে কাজের নিশ্চয়তা এবং যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিণোদন, অবকাশ ও প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে বিধৃত হয়েছে। এছাড়াও সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী প্রত্যেক মানুষের এই সার্বজনীন অধিকারটি আমাদের সংবিধানে মেক্সলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের আইনী সুরড়্গা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ বলবৎ রয়েছে। কিন্তু এ আইনে গৃহশ্রম এবং গৃহকর্মীকে অনত্মর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও নাগরিকের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়নের সুযোগ সংবিধানের ২৮ (৪) অনুচ্ছেদে রয়েছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, সুসাশন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রায় ২০ বছর এক ধারায় চলছে। কেননা নির্বাচিত সরকার ড়্গমতায় আছে। তারপরেও গণতন্ত্র হোঁচট খাচ্ছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে, গণতন্ত্রের নামে দলবাজি স্বৈরশাসন চাপিয়ে দেবার চেষ্টা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ’৯৫ সালে খালেদা জিয়া সরকার যখন ড়্গমতায় ছিলেন এই বিচারের কাজ সম্পন্ন করতে অনেক বাঁধা-বিঘ্ন পোহাতে হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের লড়াই চলছে। বর্তমানে মহাজোট সরকার ড়্গমতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নারী ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করবার অঙ্গীকার রয়েছে এই সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন। শ্রম আইন সংশোধনীতে চেষ্টা চলছে গৃহশ্রমিকের অধিকার আইনসিদ্ধ করবার। কিন্তু যতড়্গণ একটি পূর্ণাঙ্গ আইন তৈরী না হচ্ছে ততড়্গণ একটি নীতিমালা বা আচরণবিধি তৈরি হওয়া জরম্নরি যা অনত্মত গৃহকর্তা ও গৃহশ্রমিকের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়ক হবে। গৃহ অভ্যনত্মরে নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ করা যাবে। এসকল নীতিমালায় খুবই জরম্নরী কিছু বিষয় অনত্মর্ভূক্ত করা। প্রথমত, যে গৃহকর্মে কিশোর কিশোরী নিয়োগপ্রাপ্ত হবে নিয়োগকর্তার সাথে অভিভাবকের একটি চুক্তি করা জরম্নরী। স্পষ্ট উলেস্নখ থাকা দরকার কি ধরনের কাজ, মজুরি কত পাবে, কত কর্মঘন্টা, লেখা পড়ার ব্যবস্থা থাকবে কিনা, থাকা-খাওয়া, বিশ্রামের সময় এবং ছুটি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা এবং কাজের ধরন। এ সমসত্ম বিষয়ে যদি সুস্পষ্ট আলোচনা থাকে তাহলে অনেক সমস্যা দূরীভুত হতে পারে।

খুবই জরম্নরী হচ্ছে নিয়োগ ও পরিচয়পত্র। এই নিয়োগ ও পরিচয়পত্র বিষয়ে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। সেজন্য যে কোন একটি নিবন্ধনকারী কর্তৃপড়্গের মাধমে এ বিষয়গুলো দেখাশুনার ব্যবস্থা করার চিনত্মা করতে হবে। এটা যখন সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়বে তখন শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই বিষয়াদি সুনির্দিষ্ট করা জরম্নরি। একইভাবে সরকার দাপ্তরিক আদেশ বা সার্কুলারের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে গৃহকর্মী নিবন্ধনের বিষয়টি সু্‌স্পষ্ট নির্দেশ দিতে পারেন। স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব এবং গুরম্নত্ব অপরিসীম। স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। দুর্ভাগ্য আমরা এখনও ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলার ড়্গমতা, কর্তৃত্ব ইত্যাদি সুনিশ্চিত করতে পারিনি। ইতিমধ্যে উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে। আমরা আনন্দিত উপজেলায় ১জন ভাইস চেয়ারম্যান নারী পদ তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের ও বা পৌরসভার নারীদের কার্যবিধি এখনও ঠিক হয়নি। উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান কারও কার্যবিধি এখনও সুস্পষ্ট নয়। তাই গৃহশ্রমিকের মত যারা অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক তাদের নিবন্ধীকরণ, তাদের কাজ, মজুরি ইত্যাদি বিষয়ে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। তাই খুবই জরম্নরি স্থানীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্ট করা।

স্থানীয় সরকারের যে নারীনেত্রীরা রয়েছে তারা যদি এই দায়িত্ব পালন করেন গৃহশ্রমিকেরা কেমন আছে। তাদের কর্মঘন্টা, ছুটি, বিশ্রাম ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা প্রদানে তাদের জন্য আইন তৈরি হচ্ছে কিনা, আইন মানা হচ্ছে কিনা তারা যদি দেখেন গর্ভকালীন নারীরা ছুটি পাচ্ছে কিনা অথবা প্রসূতিকালীন সুবিধা দেয়া হচ্ছে কিনা তাদের জন্য কোন প্রশিড়্গণের ব্যবস্থা করা যায় কিনা তাদের নিরাপত্তার জন্য পরিবারের এবং বাইরের সচেতনতা বৃদ্ধির কোন কর্মসূচি হাতে নেয়া যায় কিনা দুর্ঘটনা অথবা কোন চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা যায় কিনা।

সবচাইতে জরম্নরি এদের বিরম্নদ্ধে নির্যাতন বন্ধ করা। প্রতিদিনের পত্রিকায় কোন না কোন নির্যাতনের চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে গৃহশ্রমিকের সংখ্যা একবারে কম নয়। তাদেও প্রতি অশালীন আচরণ, দৈহিক নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা এগুলো বন্ধ করবার জন্য স্থানীয়ভাবে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে পারে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা। কেননা আইন যতই হোক সচেতনতা সৃষ্টি না হলে এই আইন বাসত্মবায়ন খুবই দুরূহ। সে কারণে নির্যাতনের বিরম্নদ্ধে একদিকে যেমন স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব রয়েছে একইভাবে দায়িত্ব রয়েছে শ্রমিক রড়্গা অধিকারী সংগঠনসমূহের, নারী সংগঠনসমূহের এবং মানবাধিকার সংগঠনের। এছাড়াও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের পড়্গ থেকেও বিভিন্ন নির্দেশনাবলী যেতে পারে প্রচার মাধ্যমে। যেমন কোন গৃহকর্তা তার পরিবারে কোন আত্মীয়-স্বজন বা অতিথি দ্বারা তার গৃহকর্মী নির্যাতিত হয় তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তাকে। বিভিন্ন রকম সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনচিত্র যদি সবসময় এ সকল মন্ত্রণালয় থেকে প্রচার করা যায় তখনই এ সকল আইন বা নীতিমালা তৈরি হবে বা কার্যকর করা হবে।

ইয়াসমিন দিবস প্রায় ভুলতে বসেছে সবাই। বরং এই দিবস আজকে গুরম্নত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আইভী রহমানের মৃত্যু দিবস হিসাবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও সামাকিজভাবে পালিত হচ্ছে আইভী রহমানের চলে যাবার এই দিন। এই আইভী রহমানই ইয়াসমিন হত্যার দাবি তুলেছিল। এই সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছেন অনেক দূর। তাঁর কঠোর পরিশ্রমে আমরা তৈরি করতে পেরেছিলাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন। তাই এই দিবসকে আরও মহিমান্বিত করা যাবে আমরা আইভী রহমানকে যত স্মরণ করতে পারবো। নারী নির্যাতনের অগ্নিমশাল প্রজ্জলিত করে যে নারী সারাটা জীবন পরিশ্রম করে গেছেন সেই তিনিও শিকার হলেন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের। যে পুলিশ ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে যে প্রশাসন ঐ পুলিশদের বাঁচাতে চেয়েছে সে রকম রাষ্ট্রীয় প্রশাসন খোদ প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নাকের ডগায় গ্রেনেড হামলা করে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিল আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পুরো দলকে। সেদিন শুধু একজন শেখ হাসিনা বা আইভী রহমানকে নয় গোটা দলটিকেই নিশ্চিহ্ন করবার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এটি অবশ্যই একটি গণহত্যার শামিল।

আজকের এই দিনটির প্রেড়্গাপটে একদিকে যেমন বাংলাদেশের সকল গৃহশ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। একইভাবে গণতন্ত্রকে স্থায়িত্বশীল করতে গণতন্ত্র বিধ্বংসী ষড়যন্ত্রসমূহ নস্যাৎ করতে হবে। এ সকল ষড়যন্ত্র উদঘাটনে ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মত চাঞ্চল্যকর যে সকল ঘটনা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে তা উদঘাটন করা আজকে জরম্নরি দায়িত্ব-কর্তব্য। রাষ্ট্র ও প্রশাসন এবং অগণতান্ত্রিক সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক স্বৈরাচারী চরিত্রটিকে যতড়্গণ না সমূলে উৎপাটন করা যাবে ততড়্গণ ইয়াসমিনের মত কিশোরীরা জীবনের নিরাপত্তা পেতে পারে না। আইভী রহমানের মত জাতীয় নেত্রীও আশংকা থেকে মুক্ত থাকে না।

আজ একদিকে যেমন ২১ শে আগস্টের ষড়যন্ত্র উদঘাটন জরম্নরি একই সাথে প্রতিদিনের নির্যাতিত অসহায় নারী ও গৃহশ্রমিকদের জীবন রড়্গায় রাষ্ট্র ও প্রশাসন উদ্যোগ আবশ্যক। ২১ শে আগস্টের ষড়যন্ত্র এবং আইভী রহমানের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথ আমরা সুনিশ্চিত করতে চাই এবং একটি গণতন্ত্রের রাষ্ট্র-ব্যবস্থা নারী ও নারীশ্রমিকের অধিকার রড়্গায় কঠোর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

[লেখক: রাজনীতিক]

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s