বোরকা : আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ড্রেস কোড

Posted: অগাষ্ট 25, 2010 in Uncategorized

হাইকোর্ট সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের জোর করে ধর্মীয় পোশাক পরানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি) কর্তৃপক্ষ ড্রেস কোডের নামে ছাত্রীদের বোরকা বা অ্যাপ্রোনসহ মাথায় স্কার্ফ পরার নিয়ম শিথিল করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ড্রেস কোডের কোনো বিধান নেই। তবে আইআইইউসি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা তাদের নিয়ম বহাল রাখবে। অন্যদিকে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল মরিয়ম নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মুসলিম ছাত্রীদের পাশাপাশি হিন্দুসহ সব ধর্মের ছাত্রীদেরই বোরকা পরতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘এটাই তাঁদের প্রতিষ্ঠানের রেওয়াজ।’
চট্টগ্রাম থেকে ভূঁইয়া নজরুল জানান, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আট বছর আগে মহিলা ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পর থেকে ড্রেস কোডের নামে ছাত্রীদের বোরকা বা অ্যাপ্রোনসহ মাথায় স্কার্ফ পরা

শৈলকুপার মরিয়ম নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক। ছবিটি রমজানের ছুটি শুরু হওয়ার আগে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাধ্যতামূলক। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক আদেশেরর পরেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা ক্যাম্পাসে গতকাল বুধবার গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে ঢোকার মুখেই দেয়ালে ছাত্রীদের জন্য তিন ধরনের ড্রেস কোডের নির্দেশনা লেখা রয়েছে। মুখে নেকাব ও মাথায় স্কার্ফসহ দীর্ঘ বোরকা, মুখে নেকাব ছাড়া মাথায় স্কার্ফসহ দীর্ঘ বোরকা ও মাথায় স্কার্ফসহ অ্যাপ্রোন বা সেমি বোরকা_এ তিনটির যেকোনো একটি পোশাক পরতে হচ্ছে সেখানকার ছাত্রীদের। ছাত্রীদের বোরকা পরানোর কথা স্বীকার করে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বোরকা নয়, আমরা কিছু ড্রেস কোড দিয়েছি। শালীনতার স্বার্থে ছাত্রীদের এ ড্রেস কোড অনুসরণ করতে বলা হয়। এই ড্রেস কোড বদলানোর কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী জানান, কয়েক মাস আগে একজন শিক্ষক সব

ছাত্রীকে কালো বোরকা পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে পরে ছাত্রীদের প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো ড্রেস কোডের বিধান নেই জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ড্রেস কোডের নামে ছাত্রীদের বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না বলে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। বোরকা পরতে কাউকে বাধ্য করা কোনোভাবেই ঠিক নয়।’ ঝিনাইদহ থেকে এম সাইফুল মুরাদ জানান, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল মরিয়ম নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মুসলিমসহ সব ধর্মের ছাত্রীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক। ওই স্কুলের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী কালের কণ্ঠকে বলে, ‘আমাদের স্কুলের সবাই বোরকা পরে। সেজন্য আমাকেও বোরকা পরে স্কুলে যেতে হয়।’ কাচেরকোল আদিবাসী পল্লীর হিন্দু এক ছাত্রী জানায়, স্কুলের হিন্দু মেয়েদেরও বোরকা পরা বাধ্যতামূলক। কাচেরকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওহিদুজ্জামান বলেন, এলাকার মরিয়ম নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বোরকা পরা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। তাই হিন্দু-মুসলিম সব ছাত্রীকেই ওই পোশাক পরে স্কুলে যেতে হয়। তবে কাচেরকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বকর জামাল বলেন, স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সময় ছাত্রীদের জন্য বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এখন আর নিয়মটি নেই। স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম সরোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় পিছিয়ে থাকা সমাজে মেয়েদের স্কুলে যেতে দিতে অভিভাবকরা আগ্রহী হতেন না। তাই বোরকার প্রচলন করা হয়েছিল। এখন স্কুলে বোরকা পরা বাধ্যামূলক নয়, এটি একটি রেওয়াজ। হিন্দু শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, অন্যদের দেখাদেখি তারাও বোরকা ব্যবহার করে। বোরকার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি কাগজে পড়েছি। স্কুল খোলার পর নোটিশ দিয়ে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে।’

সংগ্রহ- কালের কন্ঠ ২৬.০৮.১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s