শূন্য হয়ে যাচ্ছে অর্থভাণ্ডার!

Posted: অগাষ্ট 25, 2010 in Uncategorized

কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডেল করার যন্ত্রপাতি আছে চাহিদার অর্ধেক। সংরক্ষিত এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী আছে প্রয়োজনের এক-তৃতীয়াংশ। তিন হাজার শূন্য পদ নিয়ে চলছে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রম। ট্রানজিট অবকাঠামো তৈরিতে নেই কার্যকর উদ্যোগ। নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি আগের কোনো উন্নয়ন প্রকল্প। তারপরও বন্দরের ভাণ্ডারে থাকা চার হাজার কোটি টাকা দিয়ে নগরীতে ফ্লাইওভার ও কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। অথচ বন্দরের টাকা এভাবে খরচ করার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে বন্দর অধ্যাদেশে। এ ব্যাপারে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সমকালকে বলেন, মহানগরীর যানজট কমাতে ১০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ফ্লাইওভার ও কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব দেন চট্টগ্রামের কয়েকজন সাংসদ। মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটিও। সিডিএর তত্ত্বাবধানে বন্দরের

টাকায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও ব্যয় করা অর্থ টোল আদায়ের মাধ্যমে তুলে নিতে পারবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আরও যাচাই-বাছাই করে এসব প্রকল্পের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম ও বন্দর পতেঙ্গা আসনের সাংসদ এমএ লতিফ বলেন, বন্দর ক্রমেই ওয়ান ইলেভেনের পূর্বাবস্থায় ফিরলেও তা নিয়ে যেন কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। ট্রানজিট অবকাঠামো তৈরির ব্যাপারেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখিনি মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির। বরং বন্দরের টাকা খরচ করে অযৌক্তিকভাবে অন্যত্র নতুন প্রকল্প তৈরিতেই বেশি ব্যস্ত দেখছি তাদের। ১৯৭৬ সালে প্রণীত পোর্ট অর্ডিন্যান্সের ৩ নং চ্যাপ্টারে বন্দরের ক্ষমতা ও কাজের অনুচ্ছেদে ফান্ডে জমা থাকা টাকা সরাসরি বন্দর সম্পৃক্ত কাজে খরচ করার কথা উল্লেখ আছে। অথচ এখন ফান্ডের টাকা খরচ করা হচ্ছে নগরীতে ফ্লাইওভার ও কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ করার কাজে। বন্দর অধ্যাদেশ ও মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রস্তাব প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের বোর্ড মেম্বার হাদি হোসাইন বাবুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘অ্যাক্টে বন্দরের টাকা সরাসরি বন্দরের উন্নয়নে খরচ করার কথা উল্লেখ আছে। তবে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল চাইলে জরুরি প্রয়োজনে বন্দরের টাকা দিয়ে অন্য কোনো উন্নয়নমূলক কাজও করতে পারে। ইকুইপমেন্টের হালচাল সর্বশেষ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার হ্যান্ডেল করছে ১২ লাখ টিইইউএস। বন্দরে তৈরি হওয়া মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, এ পরিমাণ কনটেইনার হ্যান্ডেল করতে হলে ৪০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্ট্রাডল ক্যারিয়ার দরকার ৫৫টি। কিন্তু ক্যারিয়ার আছে মাত্র ২৫টি। রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন ৩৫টির স্থলে আছে ১১টি। ২০ থেকে ৪০ ফুটের পণ্যভর্তি কনটেইনার হ্যান্ডেল করতে ১৬টি ফর্ক লিফট ও ৪৫টি রিচ স্টেকার দরকার। কিন্তু আগের ৫টি ফর্ক লিফট ও ২১টি রিচ স্টেকারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ১০টি ফর্ক লিফট ও রিচ স্টেকার। ২০ ও ৪০ ফুটের টেইলর দরকার ২২৩টি। কিন্তু আছে মাত্র ৫৭টি। ১৬ টনের ৪০টি ফর্ক লিফটের (স্প্রেডার) স্থলে আছে মাত্র ২৫টি। তিন টন ধারণক্ষমতার ৭৫টি লো মাস্ট ফর্ক লিফটের স্থলে আছে মাত্র ৪০টি। কনটেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিতে ৯টি কনটেইনার মুভার কেনার কথা থাকলেও কেনা হয়েছে মাত্র তিনটি। বন্ড কনটেইনার ওঠানামা করতে ১৩টি রেল গ্যান্ট্রি ক্রেন থাকা অপরিহার্য হলেও ১৫ বছরে একটিও কিনতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইকুইপমেন্টের সংকট আছে সাধারণ কার্গো জেটিতেও। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালে সাধারণ কার্গো জেটিতে বিভিন্ন ধারণক্ষমতার ১০৬টি ফর্ক লিফট ট্রাক থাকার কথা। কিন্তু আছে ৬৪টি। ১০ টনের মোবাইল ক্রেন ৩৩টির স্থলে আছে ২৩টি। ২০ টনের মোবাইল ক্রেন ১৩টির স্থলে আছে ৭টি। ভঙ্গুর নিরাপত্তা জাল নিরাপত্তা জাল নিশ্ছিদ্র করার ব্যাপারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ কারণে পণ্য চুরির অভিযোগ নিয়ে এখনও বন্দর কর্তৃপক্ষের দারে দারে ঘুরতে দেখা যায় আমদানি-রফতানিকারকদের। অথচ জরুরি ভিত্তিতে ১৪৮ জন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাদের প্রস্তাব সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকলেও সেদিকে নজর নেই কারোই। প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সংরক্ষিত এলাকায় ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১৩৬টি। নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে অস্ত্র বলতে রয়েছে ৪০টি ডাবল ব্যারল বন্দুক ও চারটি রিভলবার। ১৯৮২ সালে বরাদ্দ এসব বন্দুকের মধ্যে আবার ১১টি অকেজো হয়ে আছে। নিরাপত্তা বিভাগে অনুমোদিত ৭৮১ লোকবলের মধ্যে কর্মরত আছে ৬৭২ জন। আবার চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ২০০১ প্রণীত সর্বশেষ সমীক্ষা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ৮০ শতাংশেরই বয়স ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশের মধ্যেও ১০ শতাংশের বয়স ৪০-এর ওপর! অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সংকট চট্টগ্রাম বন্দরে শূন্য পড়ে আছে বিভিন্ন শ্রেণীভুক্ত পদ। প্রথম শ্রেণীর অনুমোদিত ২২৮টি পদের মধ্যে শূন্য পড়ে আছে ২৮টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণীর ১৮৭টি পদের মধ্যে লোকবল নেই ৪৯টিতে। তৃতীয় শ্রেণীর অনুমোদিত ৪ হাজার ৭৩২টি পদের মধ্যে খালি পড়ে আছে ১ হাজার ৩৭৫টি পদ। একইভাবে চতুর্থ শ্রেণীর ৩ হাজার ৫০৯টি পদের মধ্যে শূন্য পড়ে আছে ১ হাজার ৩৮৫টি পদ। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এখন বিভিন্ন শ্রেণীতে শূন্য পদ আছে ২ হাজার ৮৪১টি।

সংগ্রহ- সমকাল ২৬.০৮.১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s