আসুন, বিপুল ভট্টাচার্যের পাশে দাঁড়াই

Posted: অগাষ্ট 26, 2010 in Uncategorized

শাহীন সামাদ (সংগীতশিল্পী) | তারিখ: ২৬-০৮-২০১০

১৯৭১ সালে যে কজন সংগীতশিল্পী স্বাধীনতাযুদ্ধে নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে, সবকিছু ত্যাগ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, বিপুল ভট্টাচার্য তাঁদেরই একজন। মনে আছে, ওপারে কলকাতায় ১৪৪ নম্বর লেনিন সরণিতে সদ্যগঠিত ‘বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’য় আমরা গিয়ে যুক্ত হই। সেখানে গিয়ে দেখা পাই সন্জীদা খাতুন, ওয়াহিদুল হক, তারেক আলী, মাহমুদুর রহমান বেণু, এনামুল হক, লায়লা, লতা চৌধুরী, দেবু, ডালিয়া নওশীন, মোশাদ আলী, মঞ্জুলা, শর্মিলা, শীলা ভদ্র, মিলিয়া, স্বপন চৌধুরী, সৈয়দ হাসান ইমাম, আসাদুজ্জামান নূর, আলী যাকের, শারমীন মুরশীদসহ আরও

মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল ‘মুক্তির গান’-এর একটি দৃশ্য। বাঁ থেকে চতুর্থ জনই বিপুল ভট্টাচার্য

অনেকের। তাঁদের দেখে বুকে আরও আশা, শক্তি ও সাহস খুঁজে পেয়েছিলাম। এর কদিন পরই বিপুল এসে যোগ দেয়। তখন তার বয়স কতই বা হবে, ১৬/১৭ বছর। রোগা, শুকনো চেহারা। দেশের জন্য কিছু করার আশায় এই সংগঠনে এসে যোগ দিয়েছে সে। দেশের সংকটময় মুহূর্তে লক্ষ করেছি, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাই সবার আগে আন্দোলন করে সোচ্চার হন। তখনো এর ব্যতিক্রম ছিল না। এক বুক আশা নিয়ে

স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এই সংগঠনে যুক্ত হয়েছিলেন। মনে পড়ে, বিপুলের সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠে আমরা সবাই মুগ্ধ হয়েছিলাম। নির্ভীক, সাহসী ও উদ্দীপ্ত কণ্ঠ। মোশাদ আলীর কথা ও সুরের গানগুলো ও গাইত আর আমরা তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতাম। নাওয়া নেই, খাওয়া নেই, নিদ্রা নেই। সংগ্রামী গান আর গান। বিপুল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও গান গেয়েছে। তার দরদি কণ্ঠের গানগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তির গানে ‘এই না বাংলাদেশে গাইতে রে, দুঃখে আমার পরান কান্দেরে’ গানটি কি কেউ কোনো দিন ভুলতে পারবে?
আমরা যারা শরণার্থী ক্যাম্পে, মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে, বিভিন্ন মঞ্চে হাজার হাজার শ্রোতার সামনে অসীম সাহসের সঙ্গে উদ্দীপ্ত গলায় নাওয়া-খাওয়া ভুলে একের পর এক জাগরণমূলক গানগুলো গেয়ে প্রেরণা জুগিয়েছিলাম, কণ্ঠের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার সংগ্রামী শপথ নিয়েছিলাম, তার মধ্যে ছিল আমাদের সবার প্রিয় সেই বিপুল।
স্বাধীন বাংলা বেতারের মহান সংগ্রামী শিল্পী বিপুল ভট্টাচার্য আজ দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসাধীন আছে ডেলটা হাসপাতালে। তাঁর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। স্বাধীনতাযুদ্ধে দেশের প্রতি তার যে অবদান ছিল, সেদিকে দৃষ্টি রেখে তার চিকিৎসার জন্য এই মুহূর্তে সরকারের এগিয়ে আসা খুবই জরুরি। পাশাপাশি দেশের শিল্পীদেরও উচিত তার পাশে এসে দাঁড়ানো। একজন শিল্পী বেঁচে থাকে তার কর্মে। শিল্পী চায় তার ভক্ত-শ্রোতাদের কাছে সম্মান, ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই শিল্পীর পাশে দাঁড়াই।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s