জিয়া বড় অন্যায়কারী: আদালত

Posted: অগাষ্ট 26, 2010 in Uncategorized

সংবিধান স্থগিত করে এইচ এম এরশাদ অন্যায় করলেও আরেক সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমানের অন্যায় আরো গুরুতর বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। কারণ ব্যাখ্যা করে আদালত বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে বলেছে, জিয়া সংবিধান স্থগিত করেছিলেন ও মূল বিধান পরিবর্তন করেছিলেন। সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট এভাবেই দুই সেনা শাসককে তুলনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন জেনারেল এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনকে সংবিধান পরিপন্থী ও অবৈধ ঘোষণা করেন। ১৯৮৬ সালে সংসদ গঠিত হলে ওই সংসদে এরশাদের সমস্ত সামরিক ফরমান ও কাজের
বৈধতা দেওয়ার জন্য সপ্তম সংশোধনী পাস করা হয়। এর আগে ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। ওই রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক

আহমেদ, আবু সা’দাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের শাসনকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। সপ্তম সংশোধনী সংক্রান্ত রায়ে আদালত বলেছে, “এরশাদ অন্যায় করলেও জিয়া করেছেন গুরুতর অন্যায়। কেননা তিনি সংবিধান স্থগিত ও কিছু মূল বিধান পরিবর্তন করেছিলেন। আর এরশাদ কেবল সংবিধান স্থগিত করেছিলেন।” জিয়া সম্পর্কে রায়ে বলা হয়, তিনি পাকিস্তানপন্থী ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী করার পাশাপাশি একই ধারার অনেককে পুনর্বাসিত করার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। রায়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদ, আবু সা’দাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের মতো এইচ এম এরশাদকেও অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করে হাইকোর্ট। এতে আরও বলা হয়েছে, জেনারেল এরশাদ জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে বিচারপতি সাত্তারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করেন। এরশাদ ক্ষমতা দখল করে সংবিধান স্থগিত করেন। খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জেনারেল জিয়া সামরিক ফরমান বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংবিধানের যে মূল নীতি করা হয়েছিলো তা পরিবর্তন করেন। আদালত রায়ে বলেছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানকে বিদেশি শক্তির সহায়তায় কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল সেনা সদস্য হত্যা করে। খন্দকার মোশতাক আহমেদ স্পিকার বা ভাইস প্রেসিডেন্ট না হয়েও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। খন্দকার মোশতাকের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। জিয়া খন্দকার মোশতাকের সহায়তায় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু  হত্যা মামলার বিচারের পথ বন্ধ করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংবিধানে নেওয়া মূলনীতি উঠিয়ে দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি টেলিভিশন ও বেতারের নাম পরিবর্তন করেন বলেও রায়ে বলা হয়। রায়ে আরও বলা হয়েছে, জিয়া সামরিক ফরমানের বলে সামরিক আদালত ও ট্রাইবুনাল গঠন করে কর্নেল তাহেরসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে অবৈধভাবে বিচার করে শাস্তি দিয়েছেন। চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সাবেক সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ এবং ১৯৮২ থেকে ‘৮৬ সাল পর্যন্ত সব সামরিক ফরমান, আইন, আদেশ, নির্দেশকে বৈধতাদানকারী সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না- তার কারণ জানতে চায় হাইকোর্ট। সামরিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদের একটি রিট আবেদনে বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন এবং বিচারপতি নাঈমা হায়দারের বেঞ্চ সরকারের প্রতি এ আদেশ দেয়। পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করার পাশাপাশি আদালত ওই সময়ে ‘জনস্বার্থে করা’ সরকারের বেশকিছু বেআইনি কাজকে মওকুফ করে দেয়। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সরকার পরিবর্তন সংবিধানসম্মতভাবে হয়নি বলেও হাইকোর্টের ওই রায়ে অভিমত দিয়েছিল। রায় স্থগিতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আবেদন করলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার সে আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়। গত ২ ফেব্র”য়ারি পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।

সংগ্রহ- ঢাকা, অগাস্ট ২৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s