হিমবাহ গলে যাওয়ার হার বৃদ্ধিই স্বল্পমেয়াদি বন্যার কারণ

Posted: অগাষ্ট 27, 2010 in Uncategorized

হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক হারে গলে যাচ্ছে। এতে মহাদেশের একটি বিশাল অংশ খরায় আক্রান্ত হতে পারে। হিমালয়ের দুই হাজার ৪০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা হিমবাহগুলো পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটানের মূল পানির উৎস। এতে করে এশিয়া মহাদেশের ১৩০ কোটি মানুষ পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন হিমালয় অঞ্চলে তিন দশক ধরে প্রতি দশকে ০.১৫ থেকে ০.৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। ফলে হিমবাহের গলে যাওয়ার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ডবি্লউবি্লউএফের জীবনের জন্য জলবায়ু আন্দোলনের নেতা প্রশান্ত সিং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী ৪০ বছরের মধ্যে বেশিরভাগ হিমবাহ গলে যাবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ৪০ বছরের মধ্যে বেশিরভাগ হিমবাহ গলে যাবে

জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যেই হিমালয়ের সব হিমবাহ গলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের বৈশি্বক উষ্ণায়নের প্রভাব এরই মধ্যে অনুভূত হচ্ছে। নেপাল ও ভুটানের গলে যাওয়া হিমবাহ থেকে বিশালাকৃতির হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এসব হ্রদ উপচে ভাটিতে থাকা গ্রামগুলো প্লাবিত করতে পারে। নেপালের পর্বতারোহী ও পরিবেশকর্মী দাভা স্টিভেন শেরপা বলেন, ২০০৭ সালে মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে একটি তুষারপাতের ঘটনার পর থেকে তিনি পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন। হিমালয়ে বৈশি্বক উষ্ণায়নের প্রভাব বর্ণনায় তিনি জানান, একটি হিমবাহের ওপর দিয়ে

হেঁটে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর সেটি ধসে পড়ে। এদিকে অন্য এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, হিমবাহ গলে যাওয়ার হার দ্রুত বৃদ্ধির কারণে বেশি করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হচ্ছে। আর হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে নদীর প্রবাহ হ্রাস পাবে বলে ওই সমীক্ষায় জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের উৎসগুলো থেকে পানির প্রবাহ কমে গেলে ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। আইপিসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোতেও ব্যাপক বন্যা দেখা দিতে পারে এবং পরে সেখানকার নদীগুলো শুকিয়ে খরা দেখা দিতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের একটি অংশ হিমবাহ গলে যাওয়ার এ ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তারা জানিয়েছেন, হিমবাহগুলো বরং আরও জমাট বাঁধছে। সম্প্রতি এ ধারণার সমর্থক ভারতীয় ভূতত্ত্ববিদ বিজয় কুমার রায়নাকে উদ্ধৃত করে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবকে খাটো করে বর্ণনার কারণে সমালোচিত হয়েছেন সে দেশের পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ।
নেপালভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) তিন দশক ধরে হিমালয় অঞ্চলের ওপর গবেষণা চালাচ্ছে এবং সতর্ক করে বলেছে, এ অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণে আরও গবেষণা দরকার। অতিরিক্ত উষ্ণায়নের জন্য দায়ী কার্বন নিঃসরণ : যা ধারণা করা হতো, তার চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি বৈশি্বক উষ্ণায়নের জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী কার্বন ডাইঅক্সাইড। আর এতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ব্যাপারে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ তথ্যটি কোপেনহেগেন সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রতিবদনের মূল রচয়িতা ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের ড্যান ল্যান্ট বলেন, আমরা অনেক বেশি আতঙ্ক তৈরি করতে চাচ্ছি না। তবে বিশ্ববাসী কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে এর মাত্রা কতটুকু হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী আমরা। কার্বন নিঃসরণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কেও আমাদের জানতে হবে।

সংগ্রহ- সমকাল

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s