সাঁকো পারাপারে সক্ষমতা বিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা

Posted: সেপ্টেম্বর 3, 2010 in Uncategorized

‘৪০ বছরে ৫০টির বেশি হাক্কা (সাঁকো) বানাইছি আমরা আট গেরামের মানুষ। টিয়াখালী খালের দুই পারের ১০-১২ হাজার মানুষ এই হাক্কার ওপর দিয়াই খাল পার হয়। একে তো মাইনষের চাপ, হের ওপর প্রতি বর্ষায় হাক্কা নষ্ট হয়। হেই লাইগ্যা ফি বচ্ছরই নতুন হাক্কা তৈয়ার করন লাগে।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর টিয়াখালী গ্রামের শরীফ উদ্দিন। উপজেলার টিয়াখালী খালের ওপর একটি সেতুর দাবি দীর্ঘ চার দশকের। কিন্তু সেতু না হওয়ায় বছরের পর বছর দক্ষিণ আমতলী, মানিকঝুড়ি, চলাভাঙ্গা,

টিয়াখালী খালের ওপরের এই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে তিন শতাধিক খুদে শিক্ষার্থী

উত্তর টিয়াখালী, তারিকাটা, আরপাঙ্গাশিয়া, খুরিয়ার খেয়াঘাট ও টিয়াখালী গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। স্থানীয় সমাজসেবক মজনু খান জানান, গ্রামের মানুষ প্রতিবছর চাঁদা তুলে সাঁকো নির্মাণ করে খাল পারাপার হচ্ছে। অর্থাভাবে যেনতেনভাবে তৈরি সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক মানুষ হাটবাজার, স্কুল-কলেজ ও উপজেলা সদরেযাতায়াত করে। টিয়াখালী গ্রামের কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, ‘দক্ষিণ আমতলী গ্রামে মোর ফসলি জমি আছে। সিজনে ধান কাইট্টা, ধানের আডা (আঁটি) মাথায় লইয়া হাক্কা পার হই। কী যে যন্ত্রণা আমনেরা বোজবেন না!’
সেতু না থাকায় স্থানীয় কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারজাত করতে পারেন না। ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে তাঁদের বঞ্চিত হতে হয় বলে জানান আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সন্তোষ মণ্ডল। সাঁকোর দক্ষিণ পারে রয়েছে দক্ষিণ আমতলী রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। উত্তর পারে বাজার। রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এদের মধ্যে আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর খালের অন্যপার থেকে সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসা করতে হয়। শিক্ষার্থীরা জানায়, সাঁকো পারাপার হতে গিয়ে প্রতিদিনই দু-একজন খালে পড়ে যায়, বইপত্র ভিজে নষ্ট হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল সাত্তার খান বলেন, বিদ্যালয়ে ভর্তির একটি প্রধান যোগ্যতা হলো সাঁকো পারাপারের সক্ষমতা। এখানে নৌকাও নেই যে সাঁকোতে না উঠে পার পাবে। সেতুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি বলে জানান তিনি। স্থানীয় গৃহবধূ আকলিমা জানান, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন প্রসূতিরা। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এই নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে।
আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, জরুরি ভিত্তিতে টিয়াখালী খালের ওপর সাঁকোর পরিবর্তে একটি সেতু নির্মাণ করা দরকার। তিনি খুব দ্রুত এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

সংগ্রহ- প্রথম আলো ০৪.০৯.১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s