অনার্স পড়ুয়া হাবিবের সংগ্রামী জীবন

Posted: সেপ্টেম্বর 5, 2010 in Uncategorized

মাস খানেক আগের কথা রাত দশটা সাড়ে দশ টায় জিপিও থেকে শাহাবাগ আসবো বলে রাস্তায় রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে আছি এমন সময় ২৪/২৫ বছরের একটি ছেলে রিক্সা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ালো। মামা যাবেন নাকি? (এই মামা ডাকটি কবে কোথা থেকে আবিস্কার হয়েছে তা আমার জানা নেই তবে একসময় শুনলে মেজাজ খারাপ হয়ে যেতো, এখন সয়ে গেছে)। বললাম হ্যাঁ যাবো, শাহাবাগ। যাবে তুমি? ……শাহাবাগ তো আমি চিনি না তবে বলে দিলে যেতে পারবো। চেনোনা তাহলে ভাড়া চাইবে কিভাবে! যা ভাড়া তাই দিবেন! এরপর উঠে পরলাম রিক্সায় সঙ্গে জামি ভাই। রিক্সায় উঠলে সাধারনত রিক্সাওয়ালার খুটি নাটি জিজ্ঞেস করা আমার এক ধরনের অভ্যাস। এই ধরেন- কোন জেলায় বাড়ী? এখানে কোথায় থাকেন? কয় ছেলে মেয়ে? বাড়ীতে জমি-জমা আছে কিনা? রিক্সা কি ভাড়া না নিজের? ভাড়া হলে কত টাকা ভাড়া দিতে হয়? দিন গেলে কত টাকা

থাকে? ইত্যাদি ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। কেউ কেউ বিরক্তও হয় মাঝে মাঝে, তারপরেও কেন জানি প্রশ্নগুলো করি। যাই হোক এইদিন জামি ভাইয়ের সাথে কথা বলতে বলতে শাহাবাগ এসে পৌঁছে গেছি প্রশ্নগুলো আর করা হয় নাই। নেমে ভাড়া দেয়ার সময় জিজ্ঞেস করলাম, থাকো কোথায়? …….জিঞ্জিরা। তুমিতো রাস্তা চেনো না যাবে কিভাবে? মামা এখান থেকে যেতে পারবো। এতো রাত করেছো কেনো? এই প্রশ্ন করাতে ওর ক্লান্ত মুখটিতে একটু পরিবর্তন লক্ষ করলাম। কি হলো? এবার ওর উত্তর মামা আমিতো পড়াশুনা করি তাই বিকেলবেলা রিক্সা নিয়ে বের হই রাত ১১/১২ কখনো ১ টা পর্যন্ত চালাই। কোথায় পড়? অনার্স থার্ড ইয়ার সরকারী তিতুমীর কলেজ। থমকে যাই, প্রশ্ন করা বাদ দিয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি অবাক হয়ে! ব্যস্ত এই নগরীতে সিনেমাকে হার মানিয়ে যায় এরকম অনেক গল্প শুনেছি কিন্তু সাক্ষাত ঘটেনি কখনো! এবার সে রকম একটি ঘটনার নিজেই মুখোমুখি। নাম কি তোমার?……….হাবিব। মামা ছোট ভাই দুটোর পড়াশুনা নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। আর পারতেছি না, একটা চাকুরীর জন্য ট্রাষ্ট ব্যাংকে দরখাস্ত করেছি। চাকুরীটা হলে খুব উপকার হবে। সেদিন ঐ পর্যন্তই, আর তেমন কথা হয় নাই। শুধু ওর মোবাইল নাম্বারটা নিয়ে আমার নাম্বারটা ওকে দিয়ে বললাম ফোন করলে একটু এসো! এই বলে সেদিনের মতো হাবিবের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। বিদায় নিলাম বটে কিন্তু ওর সংগ্রামী জীবনটা সম্পর্কে জানার আগ্রহটা থেকেই গেলো। দূরে দাঁড়িয়ে থেকে জামি ভাই এতোক্ষন আমাদের কথোপকতন দেখছিলেন। কাছে আসতেই জিজ্ঞেস করলেন কোন ঝামেলা! না জামি ভাই সেই রকম কিছু না…….হাবিবের কথা খুলে বললাম। জামি ভাই বললেন দেখ কোন উপকার করা যায় কিনা।

এরপর প্রায় একমাস পেরিয়ে গেছে আর হাবিবের সাথে যোগাযোগ করতে পারি নাই। ফোন করলে ফোন ধরে অন্যব্যক্তি, হাবিবের কথা জিজ্ঞেস করলেই বলে তারা তাকে চেনে না। প্রথম বুঝতে না পারলেও পরে বুঝলাম ফোনটা ওর চুরি কিংবা ছিনতাই হয়ে গেছে। বেশ কয়েকদিন ফোন করার পর অবশেষে হাবিবকে আবারো পেলাম। আমার ধারনাই ঠিক মোবাইলটা ওর চুরি হয়ে গেছে নাম্বার কোথাও লিখে রাখা ছিল না বিধায় ফোন করতে পারে নাই। গতকাল নতুন সিম উঠিয়েছে। বললাম আগামীকাল আসো একসাথে ইফতার করি। পরেরদিন সে আসলো তবে ইফতারির পরে কারন ইফতারির সময় ভাড়া ছিল। ওর রিক্সায় উঠে মধুর ক্যান্টিনে আসলাম। ক্যান্টিনে বসেই কথা হচ্ছিল হাবিবের সাথে। বাবা লুৎফর রহমান বাড়ী নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নওয়াগ্রাম নামক গ্রামে, মা তাকলিমা বেগম তাদের তিন ছেলে হাবিবুর রহমান, শাহ আলম এবং মিজানকে নিয়ে ভালোই চলছিল লুৎফর-তাকলিমা পরিবার। লুৎফর রহমান সাহেব গার্মেন্টসে চাকুরী করে কষ্ট করে সংসার চালিয়ে নিচ্ছিলেন। নিজের একার পক্ষে সংসারের খরচ চালানো সম্ভব না হলেও তিনি ছেলেদের পড়াশুনা বন্ধ করেননি কখনো। স্বপ্ন একটাই একদিন ছেলেরা বড় হবে লেখা-পড়া শেষ করে চাকুরী করে সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু কোনভাবেই আর সংসারের খরচ সামলাতে পারছিলেন না রহমান সাহেব। বেতন যা পায় তা দিয়ে তিন ছেলের লেখা-পড়া, সংসারের খরচ সবমিলিয়ে যেনো চোখে অন্ধকার দেখার অবস্থা। কিন্তু হাল ছাড়বার পাত্র নয় রহমান সাহেব।  তাই ২০০০ সালের দিকে একমাত্র হালের জমিটুকু বিক্রি এবং ধার-দেনা করে রোমানের পথে পা বাড়ান প্রায় ৬০ বছর বয়সি রহমান সাহেব। বিধি বাম তার আর সেই স্বপ্ন পূরন হলো না। ভূয়া ভিসার দায়ে জেল খাটতে হলো কিছুদিন তারপর দেশে পাঠিয়ে দিল রোমান সরকার। দেশে ফিরে আর কাজ করবার মতো মানুষিক অবস্থা রইলো না রহমান সাহেবের। তারউপর পাওনাদারদের চাপ। কোন কুল-কিনারা না পেয়ে অবশেষে শেষ সম্বল বাড়ী ভিটা টুকু বিক্রি করে ধার পরিশোধ করলেন। মাথা গোজার ঠাই হলো শ্যালকদের বাড়ী। মাথা গোজা তো হলো এখন সংসার চলবে কিভাবে সে চিন্তা আর যায় না রহমান সাহেবের মাথা থেকে। কিন্তু কি করবেন সেটাও ঠিক বুঝতে পারছেন না। এমনি একটি সময় বড় ছেলে হাবিব এগিয়ে আসলেন সংসারের হাল ধরতে। হাবিব তখন সদ্য এসএসসি পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে। মামা বাড়ীর পাশে ইটের ভাটায় কাজ শুরু করে দিলেন। দিন-রাত কাজ করে সংসারকে বাঁচিয়ে রাখাই তখন হাবিবের একমাত্র সাধনা তাই পড়া-শুনা ঠিক মতো চালিয়ে যেতে পারলো না। সাময়িক বন্ধ হয়ে গেলো পড়া-শুনা। বহু চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে অবশষে এইচএসসি পাশ করে ২০০৪ সালে। এর মধ্যে দুই মামা মিলে তাদেরকে একটুকরো জায়গা কিনে দেয়ার ব্যবস্থা করে। গ্রামের একটা সমিতি থেকে বিশ হাজার টাকা ঋন নিয়ে সেই জায়গার উপর ছোট করে একটু থাকার ব্যবস্থা করে রহমান সাহেব তথা হাবিবের পরিবার। এতো কষ্টের মধ্যেও হাবিব পড়া-শুনার হাল ছাড়ল না। ২০০৫ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ভর্তি হয় সরকারী তিতুমীর কলেজ,ঢাকায়। প্রথমে বন্ধুদের সাথে মেসে উঠলেও পরে সম্ভব হয়নি মেসে থাকা। ইটের ভাটায় কাজ করে এবং ভাটা বন্ধ হলে ঢাকায় এসে রিক্সা চালিয়ে চলতে থাকলো হাবিবের সংসার এবং পড়া-শুনা। কলেজে ক্লাস করা সম্ভব হয় না হাবিবের, তাই বন্ধুদের দেয়া নোটই একমাত্র ভরসা। নিয়মিত পরীক্ষায় বসতে না পারার কারনে ইতিমধ্যে দুই বছর পিছিয়ে এখন অনার্স তৃতীয় বর্ষে। ছোট দুই ভাই শাহ আলম ও মিজান যথাক্রমে এইচএসসি প্রথম বর্ষ এবং দশম শ্রেনীতে পড়ে। দুইজনেই ক্লাসের প্রথম। তাই হাবিবের নিজের থেকেও যতো চিন্তা দুই ভাইকে নিয়ে। যেভাবেই হোক ওদের পড়া-শুনা চালিয়ে যেতে হবে। বিকেল থেকে মধ্য রাত অবধি রিক্সা চালিয়ে যে টাকা পায় হাবিব, তা থেকে থাকা-খাওয়া বাদ দিলে ২০০/২৫০ টাকা টেকে। সেই টাকা পুরোটাই পাঠিয়ে দেয় বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা এবং ছোট দুই ভাইয়ের পড়া-শুনার জন্য। রাত ১২/১ টা পর্যন্ত রিক্সা চালানোর পর আবাসস্থলে(রিক্সা গ্যারেজ) ফিরে ঘুমানোর আগে ব্যাথার ট্যাবলেট খেয়ে নিতে হয়, তা না হলে প্রচন্ড ব্যাথায় সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয়। মাথা নিচু আস্তে আস্তে করে বলে, একটা  চাকুরী যদি পাইতাম তাহলে রিক্সা চালোনাটা ছেড়ে দিতাম। রিক্সা চালানো ভিষন কষ্ট। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করেই ফেলে………মামা, একটা চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন? এতোক্ষন অবাক হয়ে শুনছিলাম ওর কথা। মনে হচ্ছিল এ যেনো কোন সিনেমা বা নাটকের গল্প শুনছি! হঠাৎ হাবিবের প্রশ্নে বাস্তবে ফিরে আসলাম। না এটা কোন সিনেমা বা নাটকের গল্প নয়। এটা আমার সামনে বসে থাকা একটি ছেলের জীবনের গল্প। হাবিবের প্রশ্নের উত্তরে তেমন কিছু বলতে পারলাম না, শুধু বললাম হাবিব চেষ্টা করবো দেখি কিছু করা যায় কি না। প্রায় এক ঘন্টা পেরিয়ে গেছে বুঝতেই পারি নাই। এবার ওর তাড়া……মামা উঠবো ঈদ সামনে বাবা-মা, ছোট দুই ভাইয়ের জন্য কাপড়-চোপড় কিনতে হবে তাই……………….। ওকে আর দেরি করালাম না, যাওয়ার সময় হাতে একশত টাকা দিয়ে বললাম এটা রাখো, তোমার অনেক সময় নষ্ট করলাম এটা তার জন্য। আর শোন এখন থেকে তুমি আমাকে মামা বলবে না, ভাইয়া বলবে! একটা ক্লান্ত হাসি দিয়ে বললো ঠিক আছে ভাইয়া।

Advertisements
মন্তব্য
  1. Ochena Ekjon বলেছেন:

    আপনার লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো। এধরনের বিরল কাহিনী এর সম্মুখীন হয়ে, কিঞ্চিত আহা উহু করে পরক্ষনেই আমরা তা ভুলে যাই, হাবিব দের কষ্ট কমানোর তেমন কোন প্রয়াস আমাদের মাঝে আর দেখা যায় না। আপনি তো তাও সময় নিয়ে লেখা টা লিখলেন। অনুরোধ রইলো শুধু লেখা লেখি নয়, সু দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে এই পরিশ্রমি মানুষদের কে পুরস্কৃত করে দেশ ও সমাজের মাঝে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সবাইকে উৎসাহিত করুন।
    ধন্যবাদ

  2. kanak বলেছেন:

    @ Ochena Ekjon, আপনাকে ধন্যবাদ। না ভাই শুধু লেখার জন্যই এই লেখা নয়। কিছু করার প্রত্যাশা আছে বৈকি! পাশাপাশি এই লেখা পড়ে যদি কেউ এগিয়ে আসে সেটাও একটা উদ্দ্যেশ্য। শুনে খুশি হবেন যে কিছুদিন আগে সেরকম একটি উপকার করার সৌভাগ্যও হয়েছে। ভালো থাকবেন।

  3. kanak বলেছেন:

    @ Ochena Ekjon, নিচের লিংটি দেখবেন ভালো লাগবে……….

    https://kanakbarman.wordpress.com/2010/08/11/scholarships-distribution-ceremony-2010/

  4. শাহেরীন বলেছেন:

    আপনার মত আমারও রিক্সায় চড়লে চালকের সাথে কথা বলার অভ্যাস আছে…
    আর সেই সুত্রে এমন ঘটনা আমার জীবনেও ঘটেছে বেশ কয়েকবার…
    মূলতঃ এদেশের সাধারণের জীবন যুদ্ধের ঘটনা প্রবাহ অনেকটা একই স্রোতে ধাবিত…..

  5. kanak বলেছেন:

    @শাহেরীন, ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
    আমাদের সাধ্যের মধ্যে পরে বা একটু চেষ্টা করলে অনেকটা সমাধান করা যায় এমন সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। এই দেখুন না, লেখাটা পড়ার পর “কৌশিক রায়” নামে একজন ভদ্রলোক এগিয়ে এসেছে। উনি আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছেন, হাবিবকে ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন ঈদের পর। বলেছেন ওর একটা চাকুরি দেয়ার জন্য চেষ্টা করবেন।
    এখন যদি আমার ভাঙ্গা হাতের লেখা আর কৌশিক দার এগিয়ে আসা মিলে হাবিবের উপকার হয়, সেতো কম নয় বলুন!
    ভালো থাকবেন।

  6. tusin বলেছেন:

    বিশ্বাস করবেন কি না জানি না এই লেখাটা পড়ে আমার চোখে দুটো লাল হয়ে যায়……….
    আসলে আমাদের সমাজে কত তরুন এমন কষ্ট করছে। আর যদি একটু অন্য দিকে তাকাই হাবীব মত অনেক তরুন আনন্দ-ফুতি করে তাদের সময় নষ্ট করেছে……যাদের কি না উচিত একটু সহযোগিতার হাত হারিয়ে দেওয়া হাবিবের মত সংগ্রামি মানুষের জন্য।
    আপনার লেখার হাত অনেক সুন্দর। পড়ে অনেক ভাল লাগল। ধন্যবাদ এরকম সুন্দর করে একটা চমৎকার ঘটনা তুলে দেওয়ার জন্য।

  7. kanak বলেছেন:

    @tusin, আমি বিশ্বাস করি আপনার……….। যে মানুষটির ভিতর একটু মনুষ্যতবোধ আছে তারই আপনার মত অবস্থা হবে।
    আর আপনি যাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলছেন তারা ভাই কখনই সেটা করে নাই, করবেও না। হাবিবরা যদি কখনো সহযোগিতা পায় তাহলে সেটা “সাধ্য নাই, ইচ্ছে আছে” এমন মানুষদের কাছেই পাবে।
    ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

  8. Tamal বলেছেন:

    kanak da,tumi to valo vabei sangbadikota korcho!!pore onek kosto lagleo hoyto etai bastobota.

  9. kanak বলেছেন:

    @Tamal, না ভাই সাংবাদিকতা আমার কাজ নয়, আর সেটা আমি করতেও পারবো না!
    বাস্তবতা অনেক কিছুই কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে আমাদের কিছু চেষ্টা করার আছে সেসব ক্ষেত্রে সেই চেষ্টাটুকু করতে হবে।
    এ ক্ষেত্রেও সেরকম চেষ্টা থেকে লেখাটি লেখা। দেখা যাক হাবিবের কোন উপকারে আসা যায় কিনা!!
    ভালো থেকো।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s