২৭ জেলার কৃষকের জন্য আসছে ৩০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

Posted: সেপ্টেম্বর 8, 2010 in Agriculture

উত্তর-পশ্চিম শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্প (এনসিডিপি) জোড়াতালি দিয়ে শেষ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রকল্পের ৫০ কোটি টাকা খরচ করে ৭৬টি বাজার তৈরির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে আটটি ‘রিফার ভ্যান’ কেনা হয়েছিল। বেশির ভাগ বাজার কৃষকের কাজে লাগেনি, ভ্যান পড়ে আছে রাজধানীতে। এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিয়েই একই ধরনের নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের ১৮টি ও উত্তর-পশ্চিমের নয়টি জেলায় নতুন প্রকল্পের কাজ এ বছরের শেষ নাগাদ শুরু হবে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। কৃষিসচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এনসিডিপি উচ্চমূল্যের শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য শস্য উৎপাদনে সফল প্রকল্প। তবে প্রকল্পে নতুন বাজারব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা কাজে আসেনি। শেষ হওয়া প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা কৃষকেরা নিতে পারেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় নেওয়া ওই প্রকল্পটি (২০০১-২০০৮) মূল্যায়ন করেছে। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষকেরা উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন করলেও বাজারব্যবস্থায় যথেষ্ট ত্রুটি ছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় ১৬টি জেলায় টমেটো, বেগুন, পেঁপে, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, মুগ ডাল, সীম, আদা, কলাসহ ৩৩টি ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ওই অঞ্চলে এসব ফসলের উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন। প্রকল্প শেষে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৬১ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন বাড়লেও উপজেলাপর্যায়ে ২০ জনের যে কৃষি বিপণন দল (ফারমার্স মার্কেটিং গ্রুপ) গঠন করা হয় তা সক্রিয় ছিল না। বাজারগুলো প্রকল্প শেষে চালুহয়নি। কাজে আসেনি ভ্যানগুলোও। অন্যদিকে কর্মকর্তা ও উপকারভোগীদের বিদেশে ঘন ঘন প্রশিক্ষণে যাওয়ার কারণে প্রকল্পের কী লাভ হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার এনসিডিপির ত্রুটিগুলো এখন চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি কমিটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। উৎপাদক পর্যায়ের ৬০টি, পাইকারি ১৫টি এবং ঢাকার গাবতলীর কেন্দ্রীয় বাজারটি কী করে চালু করা যায়, সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান শফিকুর রহমান শেখ জানান, যাঁরা উত্তর-পশ্চিম শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের কেনাকাটার কাজ করেছিলেন, এখন তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশকে শুধু ধান উৎপাদনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কৃষককে শাকসবজি, ফলমূল বাজারজাত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তিনি বলেন, উত্তর-পশ্চিমের চেয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে শস্য বহুমুখীকরণে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অঞ্চলটি দুর্যোগপ্রবণ, পুরো অঞ্চলটি খাল-বিল-নদী-নালায় পূর্ণ। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হলে কৃষক ঠকবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএইই) মহাপরিচালক সাঈদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, নতুন এই প্রকল্পে কেনাকাটার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অনুসরণ করা হচ্ছে। বিদ্যমান বাজারব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে ছোট সংগ্রহকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যেখানে কৃষক পণ্য আনতে পারবেন। এ ছাড়া উৎপাদকদের সঙ্গে বড় সুপার মার্কেটের যোগসূত্র তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডিবির সঙ্গে ১ জুলাই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্প দলিলে বলা হচ্ছে, প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের পাশাপাশি ব্যাপকভিত্তিতে ১৯টি ফসল উৎপাদন করা হবে। বর্ষাকালীন আমন তোলার পর বিস্তীর্ণ এলাকা পতিত থাকে। প্রাথমিকভাবে এসব এলাকাকে চাষাবাদের আওতায় আনা হবে। এতে দুই লাখেরও বেশি কৃষক উচ্চমূল্যের শাকসবজি, ফলমূল, শস্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া প্রতিকূলতা-সহিষ্ণু (বন্যা, লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা সহ্য করতে পারে এমন) খাদ্যপণ্যের পরীক্ষামূলক চাষ করা হবে।

সংগ্রহ- প্রথম আলো ০৯.০৯.১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s