একটি স্কুল ড্রেসের জন্য

Posted: সেপ্টেম্বর 18, 2010 in Uncategorized

‘স্যার আপনার গাড়িটা মুছে দেই, দেন না স্যার। আপনি খুশি হইয়া যা দিবেন তাই নিবো। স্যার একটু মুছি দেই।’ এভাবেই গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফরিদপুরের বিভিন্ন গাড়ির মালিক ও চালকদের কাছে মিনতি করছিল স্কুলছাত্র মো. হাসান শেখ (১৩)। কারণ, বিদ্যালয়ে যেতে তার একটি শার্ট-প্যান্ট কেনার টাকা দরকার, সেই সঙ্গে মায়ের হাতে কিছু টাকা দেওয়া দরকার। ঈদের সময় দৌলতদিয়া ঘাটে দক্ষিণাঞ্চলমুখী মানুষ ও যানবাহনের ভিড় বাড়ে। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে ঘাটে যানবাহনের চাপও বেড়েছে। এর মধ্যে ছোট গাড়ির সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ভিড়ে আটকে থাকা

গাড়ি মুছছে হাসান শেখ

গাড়ি মুছে সামান্য কিছু টাকা জোগাড় করতে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হাসান তাই বিদ্যালয়ের পরিবর্তে এখন দৌলতদিয়ার ঘাটে। হাসানের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের গান্ধিমারা (বারোমল্লিকা) গ্রামে। পড়াশোনা করে উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে। আলাপকালে হাসান জানায়, দুই বছর আগে তার দিনমজুর বাবা আতর আলী শেখ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এক রকম বিনা চিকিৎসায় মারা যান। পাঁচ ভাইবোন ও মাকে নিয়ে তাদের সংসার। একদিকে পড়ালেখার খরচ, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণ। তাই মা আনোয়ারা বেগম রাস্তায় মাটি কাটেন ও বড় ভাই আক্কাছ শেখ (১৪) মানুষের বাড়িতে কাজ করে। অভাবের সংসারে বিদ্যালয়ে যাওয়ার মতো শার্ট-প্যান্ট নেই হাসানের। এ জন্য সে সিদ্ধান্ত নেয় ঈদের মৌসুমে কিছু টাকা কামিয়ে শার্ট-প্যান্ট কিনবে এবং মায়ের হাতে কিছু টাকা তুলে দেবে। হাসান প্রথমে একদিন বাসে চকলেট বিক্রি করে, কিন্তু লাভ না হওয়ায় সে ইচ্ছা বাদ দেয়। বুধবার সকাল থেকে সে গাড়িমোছার কাজ শুরু করে। ফেরিতে দীর্ঘক্ষণ আলাপে হাসান জানায়, ‘গাড়ি মুছতে স্যারদের অনুরোধ করি। খুশি হয়ে কেউ পাঁচ টাকা, কেউ ১০ টাকা দেন। কোনো কোনো স্যার একটু বেশিও দেন।’
বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হাসানের ১১০ টাকা আয় হয়। বৃহস্পতিবার সকালে পান্তা ভাত খেয়েই বাসে উঠে সোজা নামে ঘাটে। বেলা ১১টা পর্যন্ত আয় হয় ৬০ টাকা। হাসান জানায়, ‘দর্জির দোকানে গেছিলাম, প্যান্ট-শার্ট মিলে ৩৫০ টাকার মতো লাগবে। চার দিনের টাকা দিয়া স্কুল ড্রেস বানাব। বাকি টাকা মার হাতে তুলে দিব। এতে মা ও ছোট ভাইবোন সবাই খুশি হবে।’
হাসান বলে, ‘আমি এহন টাকা রোজগার করতে শিখেছি, মা জানতে পেরে অনেক খুশি হয়েছে। বুধবারের টাকাটা মার কাছে জমা রেখেছি। ভবিষ্যতে পড়ালেখা কইরা সরকারি চাকরি করার খুব ইচ্ছা। কিন্তু সে ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে কি না জানি না। স্যার আমার জন্য দোয়া কইরেন।’ এভাবেই সে বিদায় নিয়ে আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
হাসান সম্পর্কে জানতে চাইলে গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি মো. জাবেদ আলী প্রথম আলোকে জানান, ‘আমার জানা মতে ছেলেটি খুবই ভদ্র ও মেধাবী। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। অর্থের অভাবে ওর বড় ভাই পড়ালেখা করতে পারেনি।’ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভোজন কুমার দাস বলেন, ‘হাসান খুবই দরিদ্র ও অভাবী পরিবারের ছেলে। ছাত্র হিসেবে সে খুব মেধাবী না হলেও একেবারে খারাপ নয়। প্রায় দুই বছর আগে ওর বাবা টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে শুনেছি।’
হাসান প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ে খুব অভাবী ছেলে থাকলে তাকে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করা হয়। তবে আমার জানা মতে, এলাকার অধিকাংশ ছেলে দরিদ্র পরিবারের।’ হাসানের বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

সংগ্রহ- প্রথম আলো ১৮.০৯.১০

Advertisements
মন্তব্য
  1. Nirmalya B. বলেছেন:

    porhte porhte hridoye koshter onubhuti ter pelam, asha korbo hasan jeno ujjwol bhobishyoter dike aro aro ogrosor hoy.

    amar blog e apnar sador amontron roilo. bhalo thakben.

  2. kanak বলেছেন:

    @Nirmalya B., amontron jananor jonno apnake onek onek dhonnobad.
    Valo thakben. Valo rakhben.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s