শহীদ শংকু'র মাতা

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ রংপুরের ১২ বছরের কিশোর শংকু সমাজদার। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ সারা দেশের মধ্যে রংপুরে প্রথম শহীদ হয় ১২ বছরের কিশোর শংকু সমাজদার। ৩ মার্চ সারা দেশের মতো রংপুরেও হরতাল পালিত হয়। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই হরতাল পালন করে। মিছিলে মিছিল ছিল গগনবিদারী শেস্নাগান “তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা”, ‘তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব-শেখ মুজিব’। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন সিদ্দিক হোসেন এমপিএ, ডঃ সোলায়মান মন্ডল, এমএনএ রফিকুল ইসলাম গোলাপ, অলক সরকার, মাহবুবুল বারি, খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল, অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম (প্রয়াত) প্রমুখ। মিছিলটি স্টেশন রোড অভিমুখে তেঁতুল তলায় (শাপলা চত্বর) যাচ্ছিল। মিছিলের অগ্রভাগ যখন খাদ্য গুদামের কাছে পেঁৗছেছে ঠিক সে সময় অবাঙ্গালি সরফরাজ খানের বাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে আহত হয় গুপ্তপাড়া এলাকার ১২ বছর বয়সের শংকু সমাজদার নামের সেই কিশোর। শংকুর মারা Read the rest of this entry »

আজ ১৫ জুন বুধবার বিকেল ৫.০০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন “লিমনের জন্য, জীবনের জন্য” শুরু করতে যাচ্ছে ‘স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান’। চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। আজকের এই কর্মসূচীতে যারা উপস্থিত থাকবেন তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিরা হলেন…….ভাস্কর ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিনী, লেখক ও সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাহনুমা আহমেদ ও রুবায়েত ফেরদৌস, কবি বেলাল চৌধুরী ও সাজ্জাদ কাদির, তথ্য চিত্র নির্মাতা নিশাত জাহান রানা, শিল্পী কফিল আহমেদ, প্রকাশক আহমেদুর রশীদ প্রমূখ।
আসুন, স্বাক্ষর করি লিমনের জন্য, নিজের জন্য, সর্বোপরি সকলের নিরাপদে বেঁচে থাকার জন্য। আওয়াজ তুলুন, লিমনের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার কর, করতে হবে। লিমন সহ বিচার বহির্ভূত সকল নির্যাতন এবং হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার করতে হবে।

নিশাত জাহান রাণা, কনক বর্মন ও অদিতি ফাল্গুনী

প্রিয় বন্ধুগণ,

গত ২৩ শে মার্চ বৃহত্তর বরিশালের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর গ্রামে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর এলিট ফোর্স ‘র‌্যাব’ কর্তৃক বিনা দোষে ও বিনা বিচারে গুলিবিদ্ধ হয়ে ষোল বছরের দরিদ্র, শ্রমজীবী কিশোর ও এইচ,এস,সি, পরীক্ষার্থী লিমন হোসেনের পা হারানোর ঘটনাটি ইতোমধ্যেই গোটা বাংলাদেশের সকল সাধারণ নাগরিকের তীব্র ক্ষোভ, শোক ও প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট ‘র‌্যাব’ বাহিনীর থেকে এখনো পর্যন্ত এঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয় নি। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দু’ঘণ্টার ভেতর প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উদ্যোগে ইতোমধ্যেই লিমনকে ঢাকার শ্যামলীস্থ’ পঙ্গু হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে ধানমণ্ডির ‘গণস্বাস্থ’ ক্লিনিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সাভারের সিআরপি হাসপাতালের সহায়তায় লিমনের কর্তিত বাম পায়ে কৃত্রিম পা সংস্থাপনের আগে বেশ কিছুদিন ধরে ফিজিওথেরাপি দিতে হবে। ‘গণস্বাস্থ’ কর্তৃপক্ষ Read the rest of this entry »

কনক বর্মন ও অদিতি ফাল্গুনী

দৈনিক ‘সমকাল’ পত্রিকায় লিমনকে নিয়ে ‘আমার এখন হাজারটা পা’ শিরোনামের লেখাটি মুদ্রিত হবার পর ওকে জানাতে ওর মামা’র নম্বরে ফোন করেছিলাম গত বুধবার বিকেলে। হাসি-খুশি ও আশাবাদী প্রকৃতির লিমনের গলা সেদিন অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বোধে ছিল আচ্ছন্ন।

‘আমাকে আপনারা আর একবার দেখতে আসলে খুব ভাল লাগতো। কালই আসেন। দুপুর দুইটার ভিতরে। কালই ত’ হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়া দেবে।’

‘তুমি কি দেশের বাড়ি ফিরে যাবে?’ আমরা প্রশ্ন করেছিলাম।

‘কিছুই এখনো ঠিক হয় নাই। দেশের বাড়ি যাইতে ইচ্ছা করে। কিনত্ত, এখন গেলে আমার নিরাপত্তার সমস্যা হইতে পারে। এছাড়াও এখন বর্ষাকাল শুরু হবে। বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির দিনে এত কাদা-পানি…তার ভেতর নতুন ক্রাচ নিয়া হাঁটা-চলা কি করবো…মাত্র পা’টা কাটা গ্যাছে আমার…মানবাধিকার কমিশনের ড: মিজানুর স্যার ত’ বলছেন যে আমারে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিলেও য্যানো ঢাকায় আরো কিছুদিন থাকতে পারি সেই ব্যবস্থা করবেন…যাতে আমার কাটা Read the rest of this entry »

পপসম্রাট এবং মুক্তিযোদ্ধা আজম খান….তোমায় জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তুমি বেঁচে রবে চিরদিন আমাদের হৃদয়ের গভীরে।

আজম খানের বেড়ে ওঠা : ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরের ১০ নম্বর সরকারি কোয়ার্টারে জন্মগ্রহণ করেন আজম খান। পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। বাবা মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন খান ও মা জোবেদা বেগম। বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী ও মা ছিলেন সংগীতশিল্পী। মায়ের মুখেই গান শুনতে শুনতেই গড়ে ওঠে গানের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক । ১৯৫৬ সালে আজিমপুরের সরকারি বাসা ছেড়ে কমলাপুরের জসীমউদ্দীন রোডে নিজেদের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬৮ সালে টিঅ্যান্ডটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। উঠতি বয়সে বড় ভাইদের গানের চর্চা দেখে তীব্রভাবে ঝুঁকে পড়েন সঙ্গীতের মায়াজালে। Read the rest of this entry »

আগামী রবিবার ছাড় পাবার কথা থাকলেও হরতালের কারনে পরের দিন সোমবার পঙ্গু হাসপাতাল থেকে লিমন ছাড় পাবে। পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসা শেষ হলেও ফিজিও থেরাপির জন্য লিমনকে ভর্তি কারানো দরকার কোন একটি হাসপাতালে। আর এই ভর্তি করানোর জন্য গত তিন-চার দিন থেকে ‘মানবাধিকার কমিশন’ ও ‘আইন সালিশ’ কেন্দ্র রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেও তাদের রাজি করাতে পারেন নি। কোন এক অজানা কারনে ঐসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিমনকে ভর্তি করাতে রাজি হন নি! অবশেষে ধানমন্ডির একটি হাসপাতাল (নামটি গোপন রাখা হলো) রাজি হয়েছেন লিমনকে ভর্তি করতে। এখন শেষ পর্যন্ত ধানমন্ডির সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলেই হয়!

ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় লিমনের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহায়তা দিতে অনেকেই তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সাহায্য পাঠাতে লিমনের মা মোসাম্মদ হেনোয়ারার (Mst. Henoara) নামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে একটি হিসাব খোলা হয়েছে। হিসাব নম্বর- ১৪৮.১০১.২৯১৫৭০। আপনারা যারা লিমনকে আর্থিক সহযোগীতা করতে চান, তারা সরাসরি এই হিসাব নম্বরে অর্থ জমা করতে পারেন।